কথিত আহলে হাদীসদের মাসউদী ফিরকার "সালাতুল মুসলিমীন" বইয়ের পোষ্টমর্টেম
লেখক- মুনাজিরে ইসলাম মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর ওকাড়বী রহঃ
অনুবাদঃ লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচয়
প্রিয় ভাইয়েরা! পিছনের কয়েকটি লেখায় আপনারা মাসঈদী ফিরক্বার পরিচয় জানতে পেরেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নাম কাফেরদের মুকাবিলায় মুসলিমীন রেখেছেন। আজ পর্যন্ত আমরা কাফেরদের বিপরীতে এ নামেই পরিচিত। আর রাসূল সাঃ বিদআতি ফিরক্বার বিপরীতে আমাদের নাম রেখেছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত। রাসূল সাঃ এর জমানা থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আহলে বিদআতের বিপরীতে আমাদের নাম আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতই রয়ে গেছে।
কিছু শাখাগত মাসআলায় হাদীসে বাহ্যিক বিপরীতমুখীতা থাকায় সাহাবায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ হয়েছে। যা হাজারো মুজতাহিদ সাহাবাগণের বক্তব্যে বিদ্যমান রয়েছে। যেসব মতভেদপূর্ণ বক্তব্য কিতাবুল আসার লিইমাম আবু ইউসুফ, কিতাবুল আসার লিইমাম মুহাম্মদ, মুয়াত্তা মালিক, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ইত্যাদি কিতাবে বিদ্যমান।
চার ইমামগণ যখন রাসূল সাঃ এর সুন্নতকে সংকলিত করলেন, তখন হাজারো মুজতাহিদ সাহাবাগণের মতভেদপূর্ণ বক্তব্যগুলো চার ইমামের চার মাযহাবে সন্নিবেশিত হয়ে গেছে। এসব শাখাগত মাসআলায় মালেকী, শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাবের বিপরীতে এই ইজতিহাদী মাসআলায় আমরা হানাফী নামে পরিচিত। যেমন ভারতীদের বিপরীতে আমরা বাংলাদেশী। চট্টগ্রামের বিপরীতে আমরা ঢাকাবাসী। গুলশানের বিপরীতে আমরা রামপুরাবাসী। ঠিক একই পদ্ধতিতে আমরা ইহুদী খৃষ্টানের বিপরীতে মুসলিম। খারেজী, শিয়া বিদআতিদের বিপরীতে আমরা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত। আর হাম্বলী, শাফেয়ী ও মালেকীদের বিপরীতে আমরা হানাফী।
আজ পর্যন্ত আমাদের সামনে এমন কোন মুর্খ দৃষ্টিগোচর হয়নি, যে আমাদের প্রশ্ন করেছে যে, আপনি কি ঢাকাবাসী না রামপুরাবাসী? অথবা এমন প্রশ্ন করেছে যে, তুমি কি ঢাকাবাসী না বাংলাদেশী?
তবে এমন মুর্খের পাল্লায় আমরা পড়েছি যে, যে কখনো জিজ্ঞাসা করে যে, তুমি হানাফী নাকি মুসলিম? কখনো প্রশ্ন করে যে, তুমি সুন্নি নাকি মুসলিম?
তাদের বারবার বুঝানো হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুসলিম শব্দ কাফেরদের বিপরীতে উল্লেখ করেছেন, সেখানে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যের বিপরীত মুসলিম শব্দকে হানাফী, শাফেয়ী ও মালেকী মাযহাবের বিপরীত উল্লেখ করে ইহুদীদের মত আল্লাহর বাণী বিকৃত করার অপচেষ্টা করছে ওরা।
কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ার ব্যাপারে পুরো উম্মতে মুসলিমা একমত। তাই তাদের সাথে সালাম কালাম দেয়া মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। কাদিয়ানীরা না কোন মুসলিমকে সালাম দেয়, না কোন মুসলিমের সালাম গ্রহণ করে।
ঠিক তেমনি মাসউদী ফিরক্বা। মাসউদ সাহেব হজ্বে গিয়ে কাবার ইমামের পিছনে নামায পড়েনি। কারণ কাবার ইমাম হাম্বলী মাযহাবী। আর মাযহাবের অনুসারী তার ভাষায় সাম্প্রদায়ক এবং অমুসলিম। এ কারণে সে কাবার ইমামের পিছনে নামায পড়েনি।
কিন্তু মজার ব্যাপার হল, সেই গায়রে মুসলিমের নেতৃত্বে হজ্ব সম্পাদন করে এসেছে। নামায আর হজ্বের মাঝে এ পার্থক্যকরণ মাসউদ সাহেব সম্ভবত ওহীয়ে শয়তানীর মাধ্যমে পেয়েছেন। নতুবা ওহীয়ে রহমানীতেতো নামায আর হজ্বের মাঝে কোন পার্থক্য বিদ্যমান নয়। আশা করি সাম্প্রদায়িক মাসউদ সাহেব এ বিষয়টি পরিস্কার করবেন।
সালাতুল মুসলিমীন
মাসউদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা ১৩৯৫ হিজরীতে স্বীয় ফিরক্বা প্রতিষ্ঠা করেন। তার জন্য তখন প্রয়োজন ছিল, তার বানানো ফিরক্বার জন্য একটি আলাদা নামাযও উপহার দেয়া। সে হিসেবে ১৩৯৮ হিজরীতে মাসউদ সাহেব “সালাতুল মুসলিমীন” নামে একটি বই রচনা করেন। এ বইয়ের শতভাগই নেয়া হয়েছে গায়রে মুসলিমের কিতাব থেকে। এ কিতাবের তানা হল নাসীরুদ্দীন আলবানীর কিতাব “সুফাতু সালাতিন নাবী” আর বানা হল শাওকানী যায়দী এবং ইবনে হাজার শাফেয়ী মুকাল্লিদ থেকে নেয়া হয়েছে।
এ তিন ব্যক্তিই মাসউদ সাহেবের মতে সাম্প্রদায়িক এবং গায়রে মুসলিম।
কোন ইহুদী আজ পর্যন্ত তার ইবাদতের কিতাব গায়রে ইহুদীর কিতাব থেকে সংকলিত করেনি। কোন শিখ আজ পর্যন্ত তার ধর্মের ইবাদতের পদ্ধতি কোন হিন্দুর বই থেকে নিয়েছে এর কোন নজীর নেই। কিন্তু মাসউস সাহেবের আত্মমর্যাদাবোধ নজীরবিহীন। যিনি যখন আল্লাহর সামনে দন্ডয়মান হন, তখন মাথা থেকে নিয়ে পা পর্যন্ত গায়রে মুসলিম হয়ে যান। সেই সাথে তার ফিরক্বা অনুসারীরাও গায়রে মুসলিম পদ্ধতিতে নামায আদায় করে থাকে। কেননা, এ কিতাবের একেকটি মাসআলা ঐসব লোকদের কিতাব থেকে চুরি করা হয়েছে, যাদের মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা সম্প্রদায়িক এবং গায়রে মুসলিম বলে থাকে। বিশেষ করে “আলজামাআতুল কাদীমা” পুস্তিকা লিখে আলবানী সাহেবের পুরোপুরি বিরোধিতা প্রকাশ করেছে।
মুতাওয়াতির নামায
রাসূল সাঃ তেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত মানুষ আদায় করে আসছে। দুনিয়াতে এমন কোন দিন অতিক্রান্ত হয়নি, যেদিন পৃথিবীর কোথাও নামায আদায় করা হয়নি। মাসউদ সাহেব নিজেও এটাকে অস্বিকার করতে পারবেন না। মাসউদ সাহেবের পিতৃপুরুষ কতিপয় গায়রে মুকাল্লিদরা রুকুর পরও সীনার উপর হাত বেঁধে থাকে। হাত লটকিয়ে রাখে না।
মাসউদ সাহেব রুকুর পর হাত যারা বেঁধে থাকে তাদের একটি নীতিনির্ধারণী প্রশ্ন করে থাকেন। তিনি বলেন-
“রুকুর পর সীনার উপর হাত যারা বেঁধে থাকে, তারা বলে থাকেন যে, রাসূল সাঃ রুকুর পর হাত বাঁধতেন। আচ্ছা, ঠিক আছে! আমরা মেনে নিলাম। একথা পরিস্কার যে, যদি রাসূল সাঃ হাত বেঁধে থাকেন, তাহলে সাহাবাগণ রাঃ ও হাত বেঁধেছেন। তারপর তাবেয়ীগণও হাত বেঁধেছেন। আর এভাবে সিলসিলা চলতেছিল।
কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হল, ঐ সময়টা বলুন, যখন এসে লোকেরা একেবারে হাত বাঁধা ছেড়ে দিয়েছেন। আর কোন ব্যক্তিই এর বিরোধিতা করেননি। …. আমরা যে সময়কারের প্রশ্ন করলাম, এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, এর কোন প্রমাণ হাত যারা বাঁধেন, তাদের কাছে নেই। আর এটিই নিশ্চিত কথা যে, পরস্পর মুজাকারা করলেও এ প্রশ্নে কোন উত্তর পাওয়া যাবে না। সুতরাং একথাই সঠিক যে, রুকুর পর হাত কখনো বাঁধাই হয়নি। সব সময়ই হাত ছেড়ে রাখা হতো। এ আমলই রাসূল সাঃ এর জমানা থেকে যুগ যুগ ধরে নিরবচ্ছিন্ন আমলী সূত্র পরম্পরায় চলে এসেছে। বর্তমানে সেই মুতাওয়াতির আমলের উপরই আমাদের আমল। যে কাজ রাসূল সাঃ থেকে আমল হিসেবে মুতাওয়াতির সূত্রে চলে আসছে, তার উপর পূর্বসূরীর তাকলীদ কোন আলেমের শান নয়। …….যদি কোন আমল মুতাওয়াতির সূত্রে চলে আসে, রাসূল সাঃ এর জমানায় বা সাহাবাগণের জমানায় এ আমল বন্ধ হওয়ার কোন প্রমাণ বিদ্যমান না থাকে, তাহলে উক্ত আমল হুজ্জত হবে। {সালাতুল মুসলিমীন-৫০৯-৫১২, ঈষৎ সংক্ষেপিত}
সম্মানিত পাঠকেরা! যে কুরআন মানুষ প্রতিদিন তিলাওয়াত করে থাকে, যেমনিভাবে উক্ত কুরআন তিলাওয়াত হিসেবে মুতাওয়াতির, এমনিভাবে যে নামায মুসলিমরা পড়ে থাকে, সে নামাযও তেমনিভাবে আমল হিসেবে মুতাওয়াতির।
মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা সাহেব সেই আমলী মুতাওয়াতির নামাযকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছেন। অথচ সুযোগমত তিনি নিজেই সেই আমলী মুতাওয়াতিরকে গলার মালা বানিয়ে নেন। যেমনটি উপরের বক্তব্যে দেখতে পেলেন।
মজার ঘটনা
একদিন পাঁচ জন মাসঈদী ফিরক্বা অনুসারী আমার কাছে এল। এসে বলতে লাগল, তুমি দ্বীন বিচ্যুত, আর আমরা শুধু কুরআনও হাদীসের উপর আমল করে থাকি।
আমি বললাম, আপনারা এর উপর পাক্কা থাকতে পারবেনতো? নিজের সব কথাকে কুরআনও হাদীসের দ্বারা প্রমাণিত করতে পারবেনতো?
– অবশ্যই। যদি এমন কোন কথা আসে, যার প্রমাণ আমরা কুরআন বা হাদীস থেকে না দিতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের দাবিতে মিথ্যবাদী সাব্যস্ত হবো।
– আপনাদের দাবি হল, আপনারা কেবল কুরআন ও হাদীস মেনে থাকেন। তো আমার প্রশ্ন হল, আপনারা উভয়টি কি একই পদ্ধতিতে মানেন? না ভিন্নতা আছে?
– একই পদ্ধতি।
– যেমনিভাবে প্রতিটি হাদীসের সনদ খুঁজে থাকেন, তারপর রাবীদের অবস্থা তালাশ করেন, তারপর কোন হাদীসকে সহীহ, কোন হাদীসকে জঈফ বলে থাকেন, তেমনি কুরআনে পাকের প্রতিটি আয়াতেরও কি সনদ তালাশ করেন? প্রতিটি রাবীর অবস্থা অনুসন্ধান করেন? তারপর কিছু আয়াতকে সনদহীন ও প্রমাণহীন বলে ছেড়ে দেন?
– আরে কি বলেন? কুরআনে কারীমের সাথে এমন আচরণ করলেতো পুরো কুরআনই হাত থেকে ছুটে যাবে। আমরা কুরআনে কারীমের উপর এমন জুলুম কি করে করতে পারি যে, যার কারণে কুরআনের সমস্ত আয়াত ও তার তারবীতের প্রমাণই দিতে পারবো না। এ কারণে আমরা কুরআনে কারীমের প্রতি আয়াতের সনদ অনুসন্ধান করি না। তবে প্রতিটি হাদীসের সনদ তালাশ করে থাকি। হ্যাঁ, হ্যাঁ আমরা কুরআন ও হাদীস গ্রহণের মাঝে সুনিশ্চিত পার্থক্য করে থাকি।
– এ পার্থক্যকরণের উপর কোন আয়াত বা হাদীস পেশ করুন।
– এ পার্থক্য করার উপরতো কোন আয়াত বা হাদীস নেই। হ্যাঁ, আমরা এ পার্থক্য এ কারণে করি যে, যেহেতু কুরআনে কারীম তিলাওয়াত হিসেবে মুতাওয়াতির, কিন্তু হাদীস মুতাওয়াতির নয়।
– আপনিতো প্রথম প্রশ্নের জবাবের ক্ষেত্রেই মিথ্যুক প্রমাণিত হয়ে গেলেন। না আয়াত পেশ করতে পারলেন, না হাদীস। আশ্চর্যের বিষয় হল, আপনাদের বানানো ইমামকেও ছেড়ে দিলেন। আপনি এ পার্থক্য বলেছেন যে, কুরআন মুতাওয়াতির আর হাদীস মুতাওয়াতির নয়। অথচ আপনার ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা লিখেছেন-
“হাদীসের হিফাযত দুই প্রকার। যথা-১-আমল হিসেবে। ২-বর্ণনা হিসেবে। যেকথা রাসূল সাঃ বলেছেন, তার উপর প্রতিটি জমানায় আমল হয়ে আসছে। যেমন হাদীসে এসেছে যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ। জোহরের চার রাকাত, মাগরিবের তিন রাকাত, প্রতিটি রাকাতে একটি রুকু, তারপর দুইটি সেজদা। বছরে দুইটি ঈদ ইত্যাদি। এ প্রকারের অসংখ্য হাদীস রয়েছে। যা প্রতিটি জমানার শিশুদেরও মুখে মুখে ছিল। যদি মুখে নাও বলে থাকে, তাহলে কমপক্ষে মনে মনে অবশ্যই ছিল। আর আমল হিসেবে সবাই করতেন। একদম তাওয়াতুরের সাথে এর উপর আমল হতেছিল। সেই সাথে তাওয়াতুরের সাথে তা স্থানান্তরিত হয়ে আসছে। এসব হাদীসের অকাট্য সহীহ। আর এসবের তাওয়াতুর কুরআনে কারীমের তাওয়াতুরের চেয়েও বেশি প্রশস্ত। কুরআনে কারীমের আয়াত কতিপয় আলেম এবং হাফেজদের হিফাযতে রয়েছে। কিন্তু এসব হাদীসসমূহ প্রতিটি আলেম-গায়রে আলিম এবং পুরুষ-নারী, বড় ছোটের আমলে চলে আসছে।” {তাফহীমুল ইসলাম-৫৭}
মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা আমলী তাওয়াতুরকে সনদের তাওয়াতুর বরং কুরআনী তাওয়াতুরেরও উপরে মর্যাদা দিয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ! আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত এর নামায ঐ তাওয়াতুর দ্বারাই প্রমাণিত। আর এ মুতাওয়াতির সূত্রে পৌঁছা নামাযের বিরোধিতা করা হয়েছে মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার লিখিত “সালাতুল মুসলিমীন” দ্বারা। যে কিতাবে উম্মতের মুতাওয়াতির নামাযকে ভুল সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ কিতাবের অবস্থা এমনি, যেমন কোন অর্বাচিন মুতাওয়াতির কুরআনে কারীমের খেলাফ শাজ ও মাতরূক কিরাতকে কিতাবে একত্রিত করে নাম দিয়ে দিল “কুরআনুল মুসলিমীন”। যা সুনিশ্চিতভাবে অপূর্ণাঙ্গ এবং পরিত্যাজ্য।
ঠিক তেমনি এই “সালাতুল মুসলিমীন” কিতাবটি একেবারেই অপূর্ণাঙ্গ। না এতে পূর্ণাঙ্গ নামাযের মাসআলা আছে। না পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিকতা। সেই সাথে মুতাওয়াতিরের বিপরীত শাজ বর্ণনায় ভরা। কোন মুসলিম যেমন মুতাওয়াতির কুরআনকে রেখে কোন শাজ এবং অপূর্ণাঙ্গ কুরআনকে গ্রহণ করবে না। তেমনি কোন মুসলিম এ শাজ অপূর্ণাঙ্গ নামাযকে কবুল করবে না।
দ্বিতীয় প্রশ্ন
তারপর আমি ঐ মাসউদী অনুসারীদের জিজ্ঞাসা করলাম, “কুরআন ও হাদীসের সংজ্ঞা কি?”
আমার কথা শুনে ওরা ক্ষেপে গেল, বলতে লাগল-“কে জানে না কুরআন ও হাদীসের সংজ্ঞা কি? এটাতো সবাই জানে”।
– যদি সবাই জানে, তাহলে বলতে সমস্যা কোথায়? কোন গোনাহতো নেই? যদি গোনাহ না থাকে, আর না বলার কারণে যদি লোকেরা আপনাদের অজ্ঞ বলে ধারণা করে, তাই বলে দেয়াই কি উত্তম নয়? তখন একজন বলতে লাগল-
– কুরআন ঐ কিতাব! যা রাসূল সাঃ এর উপর নাজিল হয়েছে। যা মাসহাফ তথা পুস্তকে লিপিবদ্ধ। সেই সাথে কোন সন্দেহ ছাড়া মুতাওয়াতির সূত্রে নকল হয়ে আসছে। আর হাদীস বলা হয়, রাসূল সাঃ এর কওল তথা কথা ফেল তথা কর্ম এবং তাকরীর তথা মৌন সমর্থনকে বলা হয়।
– আচ্ছা! এ দুই সংজ্ঞা কোন আয়াত বা হাদীসের অনুবাদ? একটু রেফারেন্স দিন।
– এ সংজ্ঞা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ থেকে বর্ণিত নয়। এটি ঊসূল তথা মূলনীতিবীদ উলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত।
– তাহলেতো আপনি আবারো স্বীয় দাবিতে মিথ্যুক প্রমানিত হয়ে গেলেন। আপনি বলেছেন, আপনি নাকি শুধু কুরআনও হাদীস মানেন, অথচ কুরআন ও হাদীসের সংজ্ঞা কুরআন ও হাদীস থেকে দেখাতে পারলেন না। আচ্ছা, এবার ঊসুলের কিতাবের একটু রেফারেন্স দিন, কে লিকেছে এসব? কোন জমানায় লিখেছে? আর কোন ফিরক্বার লোক এসব লিখেছেন? তাদের রায়কে আপনারা শরীয়ত বিকৃতি সাব্যস্ত করবেন কি না?
একথার জবাবে লোকটি কোন রেফারেন্স দিতে পারেনি।
তৃতীয় প্রশ্ন
আপনারা এক হাদীসকে সহীহ আরেক হাদীসকে জঈফ বলে থাকেন, তো আপনারা প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রে এ ফায়সালা কি আল্লাহ ও রাসূল সাঃ থেকে নকল করেন না উম্মতী থেকে নকল করেন? কেননা, আপনাদের কাছেতো আল্লাহ ও রাসূল সাঃ ছাড়া কারো কথা শরয়ী দলীল নয়।
লোকটি বলতে লাগল- “দুনিয়াব্যাপী কোন হাদীসের সহীহ বা জঈফ হওয়ার বিষয় আল্লাহ বা রাসূল সাঃ থেকে বর্ণিত নয়। আমরা এ ব্যাপারে শুধুমাত্র আমাদের দল প্রতিষ্ঠাতার উপর নির্ভর করি। আর আমাদের দল প্রতিষ্ঠাতা এক্ষেত্রে ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর মুকাল্লিদ হাফেজ ইবনে হাজার রহঃ, শাওকানী যায়দী এবং আলবানী গায়রে মুকাল্লিদ ফিরক্বাবাজ গায়রে মুসলিমদের উপর নির্ভর করে থাকেন।
তারা নিজেদের রায় অনুপাতে সহীহ ও জঈফের সংজ্ঞা বানিয়েছেন। যা কুরআন ও হাদীসে একেবারেই বিদ্যমান নেই। আমাদের ইমাম মুফতারিজুত তাআত [যাকে অনুসরণ করা আবশ্যক] জনাব, মাসউদ সাহেব লিখেছেন-
“এ হাদীসে কোন জঈফ হাদীস আনা হয়নি। যদি কোন ব্যক্তি এ কিতাবের কোন হাদীস জঈফ হওয়া ধরিয়ে দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তী প্রকাশে তা আর উল্লেখ করা হবে না।” {সালাতুল মুসলিমীন-২৪}
আমি বললাম-“এর দ্বারা বুঝা গেল যে, হাদীস গ্রহণ ও রদ করার মানদন্ড উম্মতীর রায়। দ্বিতীয় এই বুঝা গেল যে, হাতির দাঁত দেখানোর জন্য এক, আর খাওয়ার জন্য আরেক।
আমি ২৩ই মুহাররম ১৪১১ হিজরী তারিখে ৭ পৃষ্ঠার একটি লেখা ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা মাসঈদ সাহেবের কাছে প্রেরণ করলাম। যাতে জঈফ হাদীস ও খিয়ানত ও ধোঁকাবাজীর বিষয়ে উল্লেখ করে দেই। কিন্তু তিনি আজ পর্যন্ত তা ঠিক করেননি।”
চতুর্থ প্রশ্ন
চার ইমাম এবং মুহাদ্দিসীন এবং ফুক্বাহায়ে কেরাম শরীয়তের আহকাম বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। অজু, নামায ইত্যাদির কতটি ফরজ, যার কোন একটি না করার দ্বারা অজু ও নামায নষ্ট হয়ে যায়, কিছু কাজ বা বলার দ্বারা সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়, কিছু কাজ রাসূল সাঃ ফরজ ও ওয়াজিব হওয়া ছাড়াই সর্বদা করেছেন যাকে সুন্নত বলা হয়। সেই সাথে যাকে পছন্দ করেছেন কিন্তু সর্বদা করেননি, তাকে বলা হয় মুস্তাহাব।
কিন্তু ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা মাসঈদ সাহেব পুরো উম্মতের খেলাফ লিখে দিয়েছেন- “যে তরীকায় রাসূল সাঃ নামায আদায় করেছেন, সেই তরীকা ফরজ। সেই তরীকার মঝে ফরজ ওয়াজিব, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাবের সংজ্ঞা বানোয়াট।” {সালাতুল মুসলিমীন-৪৭}
এখন প্রশ্ন হল, ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা সাহেবতো এখানে এসবকে বানোয়াট সাব্যস্ত করে ফেলেছেন, কিন্তু ১৫৭ পৃষ্ঠায় নামাযের রাকাত সংখ্যার শিরোনাম দিয়ে তিনি ঠিকই ফরজ, সুন্নত, মুস্তাহাবের এ বানোয়াট সংজ্ঞাকে মেনে নিয়েছেন।
এবার বলুনতো, মুহাদ্দিসীনদের পরিভাষা হাদীস সহীহ, জঈফ, মাওজু, মুরসাল, মুদাল্লাস, মুযতারিব, মারূফ, মুনকার ইত্যাদির সংজ্ঞা যা আপনাদের ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা স্বীকার করেন, তা কি কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত না বানানো?
জবাবে তারা পাঁচজনই স্বীকার করে যে, আসল কথা হল, “কুরআনও হাদীসই মানি” আমরা আমাদের এ দাবি কখনোই প্রমাণিত করতে পারবো না।
রাসূল সাঃ এর সাথে বিদ্রোহ
ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা অধিকাংশ মাসআলায়ও হাদীস উপস্থাপন করতে পারেননি, যার উপর উম্মতের আমল চলে আসছে। শুধু মতভেদপূর্ণ মাসআলায় জোর চেষ্টা প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও মতভেদপূর্ণ মাসআলায় এক হাদীস গ্রহণ আরেক হাদীস বর্জনের ক্ষেত্রেও কোন শরয়ী দলীল অনুসরণ করেননি।
এটা কিছুতেই হতে পারে না যে, যে হাদীস সে লিখেছে, তা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ লিখতে বলেছেন, আর যেটাকে ছেড়ে দিয়েছে তা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ ছেড়ে দিতে বলেছেন। এসব মতভেদপূর্ণ হাদীসের ক্ষেত্রে খোদ রাসূল সাঃ যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেটিকেও সে ভেঙ্গে দেয়।
১ম মানদন্ড
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «سَيَأْتِيكُمْ عَنِّي أَحَادِيثُ مُخْتَلِفَةٌ , فَمَا جَاءَكُمْ مُوَافِقًا لِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَلِسُنَّتِي فَهُوَ مِنِّي , وَمَا جَاءَكُمْ مُخَالِفًا لِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَلِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي»
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, লোকেরা আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে মতভেদপূর্ণ হাদীস বর্ণনা করবে, সেসবের মাঝে যা কুরআন ও আমার সুন্নতের মুয়াফিক হবে সেটি আমার পক্ষ থেকে বলে সাব্যস্ত হবে। আর যা কিতাবুল্লাহ ও আমার সুন্নতের খেলাফ হবে, তা আমার পক্ষ থেকে নয়। {আলকিফায়াহ, খতীব বাগদাদীকৃত-৪৩০, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪৪৭৩}
কিন্তু মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা খুঁজে খুঁজে তার কিতাবে এমন সব হাদীসকে একত্র করেছেন, যা মুতাওয়াতির কুরআন ও সুন্নতের বিপরীত। অর্থাৎ আমলী তাওয়াতুরের বিপরীত। অথচ রাসূল সাঃ এসব করতে নিষেধ করেছেন।
২য় মানদন্ড
أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ، وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতে শেষ জমানায় এমন মিথ্যুক ও দাজ্জাল প্রকৃতির ব্যক্তি হবে, যারা তোমাদের কাছে কিছু হাদীস নিয়ে আসবে, হাদীসগুলো এমন হবে যে, যা তোমাদের বাপ-দাদারা কখনো শুনেনি। [তথা বাপ-দাদার আমলী তাওয়াতুরের বিপরীত হবে] ঐ সকল দাজ্জাল ও মিথ্যুকদের থেকে বেঁচে থেকো। তাদের নিজেদের কাছে ভিরতে দিবে না। এমন যেন না হয়, তারা তোমাদের মাঝে বিভ্রান্তি ও ফিতনা ছড়িয়ে দেয়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৫৯৬, সহীহ মুসলিম-১০, হাদীস নং-৭, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৭৬৬}
মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা একজাটাই করেছে। খুঁজে খুঁজে এমন সব হাদীস হাদীস লিখেছে, যা জমহুরের আমলী তাওয়াতুরের খেলাফ। সেই সাথে উম্মতে মুসলিমাকে মুতাওয়াতির সুন্নত থেকে হটিয়ে গোমরাহীতে ফেলে দিয়েছে। ঘরে ঘরে ফিতনা পৌঁছে দিয়ে কাফেরদের হাসির পাত্র বানিয়ে দিয়েছে।
৩য় মানদন্ড
মতভেদের কথা উল্লেখ করার পর রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তোমরা আমার এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে আঁকড়ে ধর। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৪২, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৬, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪৩, তিরমিজী, হাদীস নং-২৬৭৬}
মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা পরিপূর্ণ প্রচেষ্টা আর মেহনত করে এমন সব হাদীসকে খুঁজে খুঁজে বের করেছে যার উপর খুলাফায়ে রাশেদীনের ধারাবাহিক আমল কিয়ামত পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারবে না।
মোটকথা, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতকে ভুল প্রমাণ করার জন্য আমলী তাওয়াতুরের সাথে সাথে রাসূল সাঃ এর বাতানো উসূলেরও বিরুদ্ধাচারণ করেছে। সেই সাথে খুলাফায়ে রাশেদীনগনের সুন্নতকে পশ্চাতে নিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে। এসব করেও এ দাবি করছে যে, দুনিয়ার সকলের সংশোধন তার হাতে!
ইলমের দৈন্যতা
আমল হিসেবে মুতাওয়াতির নামাযের বিরুদ্ধে এ কিতাবে সবচে’ বেশি মুর্খতা রফয়ে ইয়াদাইনের মাসআলায় প্রদর্শন করেছে। কিন্তু আফসোস হল, এর সঠিক হুকুমটা পর্যন্ত বলতে পারেনি। স্বীয় কিতাব “খুলাসা তালাশে হক” এর মাঝে ১৯৬২ হিজরীতে রফয়ে ইয়াদাইনকে ফরজ লিখেছে। [পৃষ্ঠা-৭৯}
অথচ পুরো কিতাবে এটিকে সুন্নত সাব্যস্ত করার জন্য জোর কসরত করে গেছে। কিন্তু কোন হাদীসের মাঝে এটিকে না ফরজ লেখা দেখাতে পেরেছে না সুন্নত। যদি কোন হাদীসে ফরজ বা সুন্নত শব্দ দেখাতে পারে, তাহলে আমরা সে হাদীসের প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে এক হাজার টাকা করে পুরুস্কার দেব।
মিথ্যা! শুধুই মিথ্যা!
মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা তার বইয়ের ৪৫৩ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে “যে সকল সাহাবাগণ রাঃ থেকে রফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে একাধিক আমল সম্বলিত হাদীস বর্ণিত। তাদের মাঝে রয়েছেন-
১-হযরত উসমান রাঃ ২- হযরত তালহা রাঃ। ৩- হযরত যুবায়ের রাঃ। ৪- হযরত সাদ রাঃ। ৫- হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ রাঃ। ৬- হযরত আবু উবায়দা রাঃ। ৭- হযরত জায়েদ বিন সাবেত রাঃ। ৮- হযরত উবাই বিন কাব রাঃ। ৯-ইবনে মাসঈদ রাঃ। ১০- হযরত যিয়াদ বিন হারেস রাঃ প্রমূখ।
কিন্তু মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা কিয়ামত পর্যন্ত একথা প্রমাণ করতে পারবে না যে, এ দশজন সাহাবী কোন সহীহ সনদে রাসূল সাঃ থেকে মতভিন্নতাপূর্ণ রফয়ে ইয়াদাইনের হাদীস বর্ণনা করেছেন।
শুধু তাই নয়, একথাও প্রমাণিত করতে পারবে না যে, এ দশজন সাহাবী রফয়ে ইয়াদাইন বিষয়ে একেক সময় একেক আমল প্রমাণিত।
এক শ্বাসে দশজন সাহাবীর উপর মিথ্যাচারতো দাজ্জালও করতে ভয় পাবে। অথচ সনদহীন কথাকে খোদ ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা নিজেই জাল আর বানোয়াট বলে মন্তব্য করে থাকে। [দেখুন- ৪৮৬-৪৮৭]
যদি মাসউদ সাহেব কিংবা মাসঈদী ফিরক্বা অনুসারী কেউ এই ১০জন সাহাবী থেকে ভিন্ন সময় ভিন্ন আমল রফয়ে ইয়াদাইন বিষয়ে দেখাতে পারে সহীহ সনদে, তাহলে প্রতিটি হাদীস হিসেবে দশ হাজার টাকা পুরুস্কার দেয়া হবে।
আছে কি কোন বীর পুরুষ? আসুন! হাদীস নিয়ে আসুন!
দশ নাকি সতের?
মাসঈদী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা তার বইয়ের ৩৯৩ নং পৃষ্ঠায় আবু উমাঈদ সাঈদীর হাদীসের মাঝে একটি মজলিসের কথা উল্লেখ করেছেন। লিখেছে “এ মজলিসে দশজন সাহাবী ছিলেন।” রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবু দাউদ আর তিরমিজীর।
কিন্তু ৪৫৩ পৃষ্ঠায় একই মজলিসের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আবূ হুমাইদ রাঃ ছাড়াও ১৭জন সাহাবীর নাম উল্লেখ করেছেন। আর উদ্ধৃতি দিয়েছেন গায়রে মুকাল্লিদ ওয়াহিদুজ্জামান সাহেবের কিতাব “তাসহীলুল কারী” এর।
মাসঈদ সাহেব কিংবা মাসঈদী ফিরক্বার অনুসারী কেউ কি এ ১৭জন সাহাবীর নাম উক্ত মজলিসে উপস্থিত থাকার কথা সহীহ সনদে প্রমাণিত করতে পারবেন?
কল্পিত সেমিনার
মাসঈদ সাহেব হযরত আবূ হুমাইদ রাঃ থেকে যে মজলিসের কথা উল্লেখ করেছেন, তার বর্ণনাকারী হলেন, হযরত মুহাম্মদ বিন উমর বিন আতা। যার জন্ম হল ৪০ হিজরীতে। তাহলে এ মজলিস ৫০ হিজরীতে হয়তো অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের মাঝে হযরত জায়েদ রাঃ এর নামও নেয়া হয়েছে। যিনি ৪৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। হযরত আবূ মাসউদ রাঃ ৩৮হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। হযরত সালমান ফার্সি রাঃ ৩৪ হিজরীতে। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাঃ ৩৮ হিজরীতে, হযরত আবূ কাতাদা রাঃ ৩৮ বা ৫৪ হিজরীতে। হযরত মুহাম্মদ বিন মাসলামা রাঃ ৪১ হিজরীতে, হযরত ইমাম হাসান ৪৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার কারিশমা এটি যে, ৫০ হিজরীতে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে দশ বছর আগে ইন্তেকাল হওয়া ব্যক্তিদের রফয়ে ইয়াদাইন প্রমাণ করার জন্য কবর থেকে এনে একত্র করে দিয়েছে। বাহ! চমৎকার!
অথচ সাহাবায়ে কেরামের সময়কাল ছিল ১১০ বা ১২০ হিজরী পর্যন্ত। কিন্তু ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার উর্বর গবেষণা অনুপাতে রফয়ে ইয়াদাইনের অধিকাংশ বর্ণনাকারী ৫০ হিজরীর আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন।
মাসঈদ সাহেবের খুব কষ্ট করে তাঁদের উপস্থিত করার কষ্ট করতে হয়েছে।
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, মাসঈদ সাহেবের কুরআন ও হাদীসতো দূরে থাক ইতিহাস সম্পর্কেও সামান্য জ্ঞান নেই। {দেখুন-৪৮৮}
বিবিধ
৩১০ নং পৃষ্ঠায় হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাঃ এর যে হাদীস উল্লেখ করেছে, সেটির সনদের প্রথম রাবী হলেন, ইমাম বায়হাকী রহঃ। যিনি ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর মুকাল্লিদ। সেই সাথে তিনি নবীগণ কবরে জীবিত আক্বিদায় বিশ্বাসী। দ্বিতীয় রাবী হলেন, হাকীম গালী। যে হল শিয়া। তৃতীয় রাবী হলেন আরেম। তার মুখস্ত শক্তি একদমই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
৩১১ নং পৃষ্ঠায় হযরত উমর রাঃ এর একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেটির সনদে বায়হাকী মুকাল্লিদ ছাড়াও সুলাইমান বিন কায়সান, আব্দুল্লাহ বিন কাসেম এবং হুসাইন বিন আলী নামী তিন রাবী গায়রে মারূফ।
৩১২ নং পৃষ্ঠায় হযরত আলী রাঃ এর হাদীস উপস্থাপন করা হয়েছে। যার সনদের রাবী আব্দুর রহমান বিন আবী যিয়াদের মুখস্ত শক্তি বাগদাদে আসার পর খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আর এ হাদীসটি সুলাইমান বিন দাউদ বাগদাদী তার কাছ থেকেই নকল করেছেন। তাই এ হাদীসটি সহীহ নয়।
৩১২ নং পৃষ্ঠায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে। যেটি মারফূ হওয়াই সন্দেহযুক্ত।
৩১৩ নং পৃষ্ঠায় হযরত মালিক বিন হুয়াইরিস রাঃ এর হাদীস নকল করা হয়েছে। যার ভিত্তি আবূ কালাবা নাসেবী এবং নসর বিন আসেম খারেজীর উপর। সেই সাথে এর দ্বারা নাসায়ীতে সেজদার অবস্থায় রফয়ে ইয়াদাইন করাও প্রমাণিত। কিন্তু ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা একথা প্রকাশ করেনি। গোপন করেছে।
৩১৩ নং পৃষ্ঠায় হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। যার সনদে মুহাম্মদ বিন জাহাদাহ শিয়া। সেই সাথে আবূ দাউদে তার থেকে সেজদার অবস্থায় রফয়ে ইয়াদাইন করার প্রমাণ বিদ্যমান।
৪৫৪ পৃষ্ঠায় এ দাবি করা হয়েছে যে, রফয়ে ইয়াদাইনতো সকল সাহাবাই করতেন। দলীল হিসেবে আবু দাউদের হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আবু দাউদে হযরত ওয়াইল বিন হুজুরের দ্বিতীয়বার আগমনের সময়ে শুধুমাত্র তাকবীরে তাহরীমার রফয়ে ইয়াদাইনের কথা এসেছে। কিন্তু মাসঈদ সাহেব এর দ্বারা রুকুতে যাওয়ার রফয়ে ইয়াদাইন প্রমাণ করতে চেষ্টা করছেন।
৩৩৮ নং পৃষ্ঠায় কিরাত খালফাল ইমাম তথা ইমামের পিছনে কিরাত পড়ার আলোচনায় হযরত আব্দুল্লা বিন ওমর রাঃ ও আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ এর একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। যাতে বলা হয়েছে যে, ইমামের চুপ থাকার সময় মুক্তাদীরা কিরাত পড়ে নিবে। এর সনদের প্রথম রাবী হলেন ইমাম বায়হাকী। যিনি ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর মুকাল্লিদ। দ্বিতীয় রাবী হলেন আবূ আব্দুল্লাহ হাফেজ হল রাফেজী খবীশ। তৃতীয় রাবী আবূস সালাত হারয়ী রাফেজী খবীশ। চতুর্থ রাবী আবু মুয়াবিয়া মুরজিয়া।
এরা সবাই মাসঈদ সাহেবের নিকটও ফিরক্বাবাজ এবং মুশরিক। তাছাড়া মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আবূ তাইয়্যিব শায়ীরী এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজীজ কাজী জুরজানী রহঃ এ দুইজনকে গ্রহণযোগ্য বলেননি। আর শুয়াঈব এবং মুহাম্মদ উভয় রাবী মুদাল্লিস।
এই হল তার বর্ণিত দলীলের সনদের হালাত। যেটাকে মাসঈদ সাহেব সহীহ বলে প্রচার করছেন।
ভাল বলে দেয় যেটিকে ইচ্ছে, এই হল তাদের কারিশমা।
চোখ বন্ধ করে কত কর্ম করে মনে করে কেউ দেখে না।
মোদ্দাকথা, এ সালাতুল মুসলিমীন কিতাব যা সে তার ধারণা অনুপাতে গায়র মুসলিমের কিতাব থেকে সংকলিত করেছে। অগ্রহণযোগ্য হওয়ার সাথে সাথে নামাযের মাসায়েল এবং নামাযের ধারাবাহিকতা বর্ণনার ক্ষেত্রে নেহায়াতই অসম্পূর্ণ গ্রন্থ।
অধিকাংশই দুর্বল বর্ণনার উপর নির্ভর করা হয়েছে। যা মুতাওয়াতির আমলের খেলাফ হওয়ার দরূন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাদীস নির্বাচন এবং তার সহীহ ও জঈফ হওয়ার ক্ষেত্রে শরয়ী দলীলের দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়নি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে মুতাওয়াতির কুরআনের মত মুতাওয়াতির নামাযের উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। সেই সাথে বিভেদ সৃষ্টিকারী দলের প্রোপাগান্ডা থেকে হিফাযত করুন। আমীন।
কথিত আহলে হাদীসদের মাসঈদী ফিরক্বা তথা জামাআতুল মুসলিমীনের হাকীকত!
লেখক- মুনাজিরে ইসলাম মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর ওকাড়বী রহঃ
অনুবাদঃ লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
মাসউদী ফিরক্বা এবং কুরআন
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, কুরাআনে কারীম আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ গ্রন্থ। যা আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে রাসূল সাঃ এর উপর নাজিল হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, চৌদ্দশত শতাব্দীর মুসলমানদের কাছে এ কুরআন কাদের মাধ্যমে পৌঁছেছে? একথা স্পষ্ট যে, রাসূল সাঃ এবং আমাদের মধ্যকার মাধ্যম উম্মতী। আমাদের দেশে কুরআনে পাক নিয়ে আসা ব্যক্তি সকলেই ছিলেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী। যারা আমাদের নিকট পরিপূর্ণ মুসলমান। এ কারণে আমাদের কাছে এ কুরআন মুসলমানদের দ্বারাই পৌঁছেছে। কিন্তু মাসউদী ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতকে মুশরিক ও গায়রে মুসলিম বলে থাকে। তাই তার কাছে কুরআন মুশরিক আর গায়রে মুসলমানদের মাধ্যমে পৌঁছেছে। ইহুদীদারাও এতটা আত্মমর্যাদাহীন নয় যে, তারা ঐ কিতাবকে মানবে যে, কিতাবের আর মুসা আঃ এর মধ্যকার মাধ্যম অইহুদী। হিন্দু এবং খৃষ্টানরাও এমন কিতাবকে ঐশী গ্রন্থ মানতে তৈরী নয়, যে কিতাব তাদের কাছে হিন্দু নয় বা অখৃষ্টানদের দ্বারা পৌঁছেছে।
কিন্তু এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার আত্মমর্যাদাবোধ এতটাই নিচ যে, যাদের সে মুশরিক এবং গায়রে মুসলিম বলে থাকে, তাদের আনীত কুরআনের উপরই নির্ভর করে থাকে। তারতো উচিত এমন কুরআন নিয়ে আসবে, যেটি গায়রে মুকাল্লিদ নামী ব্যক্তিদের নিরবচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরায় তার কাছে এসেছে। নিরবচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরাতো দূরে থাক, গায়রে মুকাল্লিদদের সনদে খবরে ওয়াহিদ দিয়েও কুরআনে কারীমকে প্রমাণিত করতে পারবে না।
কিন্তু এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার আত্মমর্যাদাবোধ এতটাই নিচ যে, যাদের সে মুশরিক এবং গায়রে মুসলিম বলে থাকে, তাদের আনীত কুরআনের উপরই নির্ভর করে থাকে। তারতো উচিত এমন কুরআন নিয়ে আসবে, যেটি গায়রে মুকাল্লিদ নামী ব্যক্তিদের নিরবচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরায় তার কাছে এসেছে। নিরবচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরাতো দূরে থাক, গায়রে মুকাল্লিদদের সনদে খবরে ওয়াহিদ দিয়েও কুরআনে কারীমকে প্রমাণিত করতে পারবে না।
কতিপয় প্রশ্নাবলী
মাসউদী ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার অন্যদের প্রশ্ন করার খুবই শখ। নিজেদের ভ্রান্তিতা ও ভুলকে প্রশ্নের মোড়কে আড়াল করে রাখতে চায়। যার সম্পর্ক না কুরআনের সাথে না হাদীসের সাথে। কিন্তু অন্যদের প্রশ্নের জবাব দেবার কোন সাড়া তার থেকে পাওয়া যায় না। প্রথমতঃ প্রশ্ন শুনে মৃত বাড়ির মত শুনশান নিরবতা নেমে আসে। আর যদি কোন প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য বাধ্য করা হয়, তাহলে গালি-গালাজ শুরু করে দেয়। এ এক আশ্চর্য স্বভাব তাদের। খুব দ্রুতই খোলস পাল্টে ফেলে।
এক ব্যক্তিকে বলেঃ “প্রশ্নকারীর জন্য উচিত যে, সে প্রশ্নের মাঝে যে প্রকার আছে তার প্রমাণ কুরআনে কারীম এবং হাদীস থেকে দিবে। প্রমাণ দেবার পর প্রশ্ন করবে। এ সকল প্রকার একেবারেই ফালতু এবং মনগড়া”। {আলজামাআতুল কাদিমাহ-২৯}
আমরা প্রশ্ন করি, আপনি যেসব প্রশ্ন করে থাকেন, এসব কি কুরআন ও হাদীসে আছে?
১
আপনি আপনার কিতাবে উসূলে হাদীসের পরিভাষা, আর রাবীদের প্রকার বর্ণনা করেছেন। এসবের প্রমাণ কুরআন ও হাদীস থেকে দিয়ে জবাব দেয়ার সহীহ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে দিন।
২
আপনি কুরআন ও হাদীস মানার দাবী করে থাকেন। কিন্তু উভয়টিকে একইভাবে মানেন না। কুরআনের কোন আয়াতের সনদ খুঁজে দেখেন না। কিন্তু হাদীসকে সনদ ছাড়া একেবারেই মানেন না। এ পার্থক্য কুরআনের আয়াতে কিংবা হাদীসে আছে? না নিজের মনগড়া উসূল?
৩
কারীগণ এ ব্যাপারে একমত যে, কুরআনে পাকের সাতটি মুতাওয়াতির কিরাত রয়েছে। যাতে পরস্পর ভিন্নতা ও মতভেদ রয়েছে। চার ইমাম, যাদের আপনি হক মানেন, কিন্তু তাদের মতভেদকে সহ্য করতে পারেন না। তাই তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু সাত কারীদের কেরাতের মতভেদকে কোন আয়াত বা হাদীসের কারণে সহ্য করছেন? তাদের মত এটাকেও কেন ছেড়ে দিচ্ছেন না? যাতে করে কুরআন থেকেও মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন।
৪
জনাব এবং জনাবের ফিরক্বার লোকেরা সাত কিরাতে কুরআন তিলাওয়াত করেন, না এক কিরাতে? এক কিরাতে কুরআন তিলাওয়াত করলে সাত কিরাতের সওয়াব পাওয়া গেলে, চার ইমামের মধ্য থেকে এক ইমামের তাকলীদ করলে পূর্ণ সুন্নতের উপর আমলের সওয়াব পাওয়া যায় কি যায় না? যদি না যায়, তাহলে এ দু’টির মাঝে পার্থক্যটি কুরআন বা হাদীস দিয়ে স্পষ্ট করে দিন।
৫
সাত কেরাতের মাঝে ছয় কেরাতকে সর্বদার জন্য ছেড়ে দিয়ে শুধু এক কিরাতে সর্বদা তিলাওয়াত করা আপনার রায়ের উপর নির্ভরশীল? না কুরআন বা হাদীসের হুকুম? রেফারেন্সসহ বলুন।
৬
এ সাত মতভেদপূর্ণ কেরাতের কারীদের মাঝে মক্কী, মাদানী, বসরী কারীও ছিল। কিন্তু আপনি সবাইকে ছেড়ে দিয়ে কারী আসেম কুফী রহঃ এর কেরাতকে কেন আঁকড়ে ধরলেন? মক্কা মদীনার সাথে সম্পর্ক ছেদ করে এ ইরাকীর সাতে সম্পর্ক জোড়লেন কেন? যাদের ব্যাপারে আপনার ভাষ্য হল, “ইরাকীরা নামকাওয়াস্তে মুসলমান ছিল। না তাদের কুরআনের সাতে কোন মোহাব্বত ছিল, না হাদীসের সাথে। তারাতো ফেতনাবাজ আর দ্বীনের দুশমন ছিল”। {তাফহীমুল ইসলাম-১১৪}
৭
আপনার নিকট এ সাত কিরাতের সমষ্টি কুরআন? না প্রতিটি কিরাত আলাদা আলাদা পূর্ণ কুরআন? যদি সব ক’টির সমষ্টি কুরআন হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলার হুকুম ادخلوا فى السلم كافة তথা “তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবিষ্ট হও” আয়াত অনুপাতে আপনারা বাকি কেরাতের উপর কেরাত কেন করেন না? শুধুমাত্র সপ্তমাংশের উপর তেলাওয়াত কেন?
৮
যদি প্রতিটি কেরাত আলাদা আলাদা কুরআন হয়ে থাকে, তাহলে কি রাসূল সাঃ এর উপর সাতটি কুরআন নাজিল হয়েছিল? যেমনিভাবে আপনারা এক দ্বীনের উপর চার মাযহাব হওয়ায় বদনাম করে থাকেন। এক আল্লাহ আর কুরআন সাতটি বলা কি জায়েজ আছে?
৯
যদি কোন অমুসলিম আপনার ফেরক্বায় অন্তর্ভূক্ত হয়, তাহলে আপনি তাকে সাত কেরাতের মাঝে কোন কুরআন দিবেন, যাতে সে হুকুম ادخلوا فى السلم كافة তথা “তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবিষ্ট হও” আয়াত অনুপাতে সাচ্চা মুসলমান হতে পারে?
১০
এই সাত কিরাত কি রাসূল সাঃ এর উপর নাজিল হয়েছিল? না এ সাত কারীর উপর? এ সাতজন কারী কি কুরআন প্রণেতা ছিল? না কুরআন প্রচারক?
১১
আপনি আপনার ফেরক্বা ১৩৯৫ হিজরীতে করাচিতে বানিয়েছেন। আর কুরআন কুফাওয়ালা [কারী আসেম কুফী রহঃ এর কেরাতের কুরআন] মেনেছেন। আর রুশ এলাকার লেখা সিহাহ সিত্তার কিতাব মানলেন। আপনার মক্কা মদীনার সাথে এত ঘৃণা ও বিদ্বেষ কেন?
১২
আপনার আসমাউর রিজাল গ্রন্থের সাথে ভাসা ভাসা সম্পর্ক জানি। আপনি বলেনতো, কারী আসেম কুফী রহঃ কে ঐক্যমত্বের ভিত্তিতে সিক্বা পেয়েছেন নাকি তিনি মুখতালাফ ফী তথা মতভেদপূর্ণ রাবী? অবশেষে জঈফ আর মুখতালাফ ফী ব্যক্তির কুরআনই আপনার কেন পছন্দ হল? এসব কি আপনার নিজের মনগড়া মত না কুরআন ও হাদীসের কোন দলীল আছে?
১৩
বুখারী শরীফের বর্ণনা অনুপাতে রাসূল সাঃ, আবু বকর রাঃ এবং হযরত উমর রাঃ এর জমানায় সাত হরফের কিরাতেই কুরআন তিলাওয়াত হতো। হযরত উসমান রাঃ ছয় হরফে কুরআনে কারীম তেলাওয়াত করাকে শক্তভাবে বারণ করেছেন। এখন আপনি রাসূল সাঃ এর অনুসরণে সাত কিরাতে কুরআন তিলাওয়াত করে থাকেন, না হযরত উসমান রাঃ এর রায়ের তাকলীদ করে থাকেন? খলীফা সাহেবের ছয় অথবা ছষ্ঠমাংশ কুরআনের তেলাওযাত থেকে বাধা দেয়ার কোন অধিকার কি কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী ছিল? যদি থেকে থাকে, তাহলে উক্ত আয়াত বা হাদীস উপস্থাপন করুন। যা হযরত উসমান রাঃ এ থেকে নিষেধ করেছেন।
এক ব্যক্তিকে বলেঃ “প্রশ্নকারীর জন্য উচিত যে, সে প্রশ্নের মাঝে যে প্রকার আছে তার প্রমাণ কুরআনে কারীম এবং হাদীস থেকে দিবে। প্রমাণ দেবার পর প্রশ্ন করবে। এ সকল প্রকার একেবারেই ফালতু এবং মনগড়া”। {আলজামাআতুল কাদিমাহ-২৯}
আমরা প্রশ্ন করি, আপনি যেসব প্রশ্ন করে থাকেন, এসব কি কুরআন ও হাদীসে আছে?
১
আপনি আপনার কিতাবে উসূলে হাদীসের পরিভাষা, আর রাবীদের প্রকার বর্ণনা করেছেন। এসবের প্রমাণ কুরআন ও হাদীস থেকে দিয়ে জবাব দেয়ার সহীহ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে দিন।
২
আপনি কুরআন ও হাদীস মানার দাবী করে থাকেন। কিন্তু উভয়টিকে একইভাবে মানেন না। কুরআনের কোন আয়াতের সনদ খুঁজে দেখেন না। কিন্তু হাদীসকে সনদ ছাড়া একেবারেই মানেন না। এ পার্থক্য কুরআনের আয়াতে কিংবা হাদীসে আছে? না নিজের মনগড়া উসূল?
৩
কারীগণ এ ব্যাপারে একমত যে, কুরআনে পাকের সাতটি মুতাওয়াতির কিরাত রয়েছে। যাতে পরস্পর ভিন্নতা ও মতভেদ রয়েছে। চার ইমাম, যাদের আপনি হক মানেন, কিন্তু তাদের মতভেদকে সহ্য করতে পারেন না। তাই তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু সাত কারীদের কেরাতের মতভেদকে কোন আয়াত বা হাদীসের কারণে সহ্য করছেন? তাদের মত এটাকেও কেন ছেড়ে দিচ্ছেন না? যাতে করে কুরআন থেকেও মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন।
৪
জনাব এবং জনাবের ফিরক্বার লোকেরা সাত কিরাতে কুরআন তিলাওয়াত করেন, না এক কিরাতে? এক কিরাতে কুরআন তিলাওয়াত করলে সাত কিরাতের সওয়াব পাওয়া গেলে, চার ইমামের মধ্য থেকে এক ইমামের তাকলীদ করলে পূর্ণ সুন্নতের উপর আমলের সওয়াব পাওয়া যায় কি যায় না? যদি না যায়, তাহলে এ দু’টির মাঝে পার্থক্যটি কুরআন বা হাদীস দিয়ে স্পষ্ট করে দিন।
৫
সাত কেরাতের মাঝে ছয় কেরাতকে সর্বদার জন্য ছেড়ে দিয়ে শুধু এক কিরাতে সর্বদা তিলাওয়াত করা আপনার রায়ের উপর নির্ভরশীল? না কুরআন বা হাদীসের হুকুম? রেফারেন্সসহ বলুন।
৬
এ সাত মতভেদপূর্ণ কেরাতের কারীদের মাঝে মক্কী, মাদানী, বসরী কারীও ছিল। কিন্তু আপনি সবাইকে ছেড়ে দিয়ে কারী আসেম কুফী রহঃ এর কেরাতকে কেন আঁকড়ে ধরলেন? মক্কা মদীনার সাথে সম্পর্ক ছেদ করে এ ইরাকীর সাতে সম্পর্ক জোড়লেন কেন? যাদের ব্যাপারে আপনার ভাষ্য হল, “ইরাকীরা নামকাওয়াস্তে মুসলমান ছিল। না তাদের কুরআনের সাতে কোন মোহাব্বত ছিল, না হাদীসের সাথে। তারাতো ফেতনাবাজ আর দ্বীনের দুশমন ছিল”। {তাফহীমুল ইসলাম-১১৪}
৭
আপনার নিকট এ সাত কিরাতের সমষ্টি কুরআন? না প্রতিটি কিরাত আলাদা আলাদা পূর্ণ কুরআন? যদি সব ক’টির সমষ্টি কুরআন হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলার হুকুম ادخلوا فى السلم كافة তথা “তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবিষ্ট হও” আয়াত অনুপাতে আপনারা বাকি কেরাতের উপর কেরাত কেন করেন না? শুধুমাত্র সপ্তমাংশের উপর তেলাওয়াত কেন?
৮
যদি প্রতিটি কেরাত আলাদা আলাদা কুরআন হয়ে থাকে, তাহলে কি রাসূল সাঃ এর উপর সাতটি কুরআন নাজিল হয়েছিল? যেমনিভাবে আপনারা এক দ্বীনের উপর চার মাযহাব হওয়ায় বদনাম করে থাকেন। এক আল্লাহ আর কুরআন সাতটি বলা কি জায়েজ আছে?
৯
যদি কোন অমুসলিম আপনার ফেরক্বায় অন্তর্ভূক্ত হয়, তাহলে আপনি তাকে সাত কেরাতের মাঝে কোন কুরআন দিবেন, যাতে সে হুকুম ادخلوا فى السلم كافة তথা “তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবিষ্ট হও” আয়াত অনুপাতে সাচ্চা মুসলমান হতে পারে?
১০
এই সাত কিরাত কি রাসূল সাঃ এর উপর নাজিল হয়েছিল? না এ সাত কারীর উপর? এ সাতজন কারী কি কুরআন প্রণেতা ছিল? না কুরআন প্রচারক?
১১
আপনি আপনার ফেরক্বা ১৩৯৫ হিজরীতে করাচিতে বানিয়েছেন। আর কুরআন কুফাওয়ালা [কারী আসেম কুফী রহঃ এর কেরাতের কুরআন] মেনেছেন। আর রুশ এলাকার লেখা সিহাহ সিত্তার কিতাব মানলেন। আপনার মক্কা মদীনার সাথে এত ঘৃণা ও বিদ্বেষ কেন?
১২
আপনার আসমাউর রিজাল গ্রন্থের সাথে ভাসা ভাসা সম্পর্ক জানি। আপনি বলেনতো, কারী আসেম কুফী রহঃ কে ঐক্যমত্বের ভিত্তিতে সিক্বা পেয়েছেন নাকি তিনি মুখতালাফ ফী তথা মতভেদপূর্ণ রাবী? অবশেষে জঈফ আর মুখতালাফ ফী ব্যক্তির কুরআনই আপনার কেন পছন্দ হল? এসব কি আপনার নিজের মনগড়া মত না কুরআন ও হাদীসের কোন দলীল আছে?
১৩
বুখারী শরীফের বর্ণনা অনুপাতে রাসূল সাঃ, আবু বকর রাঃ এবং হযরত উমর রাঃ এর জমানায় সাত হরফের কিরাতেই কুরআন তিলাওয়াত হতো। হযরত উসমান রাঃ ছয় হরফে কুরআনে কারীম তেলাওয়াত করাকে শক্তভাবে বারণ করেছেন। এখন আপনি রাসূল সাঃ এর অনুসরণে সাত কিরাতে কুরআন তিলাওয়াত করে থাকেন, না হযরত উসমান রাঃ এর রায়ের তাকলীদ করে থাকেন? খলীফা সাহেবের ছয় অথবা ছষ্ঠমাংশ কুরআনের তেলাওযাত থেকে বাধা দেয়ার কোন অধিকার কি কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী ছিল? যদি থেকে থাকে, তাহলে উক্ত আয়াত বা হাদীস উপস্থাপন করুন। যা হযরত উসমান রাঃ এ থেকে নিষেধ করেছেন।
অগভীর পড়াশোনা
এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা সত্যই বলেছেন যে, অগভীর দৃষ্টিতে গবেষণা করলে হাদীস মানুষকে গোমরাহ করে দিতে পারে। পড়াশোনায় গভীরতা না থাকলে হাদীসের সুক্ষœ অর্থ বুঝতে সক্ষম হবে না। অগভীর দৃষ্টিতেতো কুরআন পড়লেও গোমরাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। {তাফহীম-২২৬}
তারপর তিনি লিখেনঃ যদি কুরআনের ব্যাখ্যাকে এভাবে স্বাধীন করে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে কুরআনে কারীম বাচ্চাদের খেলার বস্তুতে পরিণত হবে। একদল এক অর্থ করবে, আরেক দল করবে ভিন্ন অর্থ। এসবের সবচে’ বড় ক্ষতি এটা হবে যে, মানুষ নাস্তিক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। ÑÑÑÑ এ মতভেদ এবং নাস্তিকতা থেকে বাঁচার জন্য জরুরী হল, কুরআনে কারীমের প্রতিটি শব্দের একটি অর্থ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া। {তাফহীম-৪৩}
তার এ বক্তব্য দ্বারা একথা বুঝা গেল যে, কুরআন দ্বারা গোমরাহীও প্রসার হতে পারে। সেই সাথে নাস্তিকতাও বিস্তার লাভ করতে পারে। যদি কেউ অগভীর পড়াশোনা আর স্বীয় রায়ের উপর আত্মপ্রশান্ত হয়ে থাকে।
কিন্তু আফসোসের বিষয় হয়, এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা নিজেই এ রোগের রোগী। আল্লাহ তাআলা এবং তার রাসূল সাঃ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, কুরআন ও হাদীসের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রাজ্ঞ ফক্বীহদের কথা গ্রহণযোগ্য। উম্মতের মাঝে এটাই একমাত্র দল। যাদের সিদ্ধান্ত সঠিক হলে সওয়াব দু’টি আর ভুল হলে সওয়াব একটি হয়ে থাকে। তাই ফক্বহী ও তাদের মুকাল্লিদের কোন ভয় নেই। তাদের দ্বীনী আমল সুনিশ্চিতভাবে কবুল হবে। একটি সওয়াব সুনিশ্চিত আরেকটি পাওয়ারও আশা রয়েছে।
তবে এখানে ফক্বীহ দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সকল ফক্বীহ, যারা শরয়ী দলীল তথা ইজমায়ে উম্মত অর্থাৎ উম্মতের ঐক্যমত্বের ভিত্তিতে ফক্বীহ হওয়া স্বীকৃত। যদি শরয়ী দলীলের ভিত্তিতে ফক্বীহ না হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিষয়টি ভিন্ন।
তারপর তিনি লিখেনঃ যদি কুরআনের ব্যাখ্যাকে এভাবে স্বাধীন করে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে কুরআনে কারীম বাচ্চাদের খেলার বস্তুতে পরিণত হবে। একদল এক অর্থ করবে, আরেক দল করবে ভিন্ন অর্থ। এসবের সবচে’ বড় ক্ষতি এটা হবে যে, মানুষ নাস্তিক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। ÑÑÑÑ এ মতভেদ এবং নাস্তিকতা থেকে বাঁচার জন্য জরুরী হল, কুরআনে কারীমের প্রতিটি শব্দের একটি অর্থ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া। {তাফহীম-৪৩}
তার এ বক্তব্য দ্বারা একথা বুঝা গেল যে, কুরআন দ্বারা গোমরাহীও প্রসার হতে পারে। সেই সাথে নাস্তিকতাও বিস্তার লাভ করতে পারে। যদি কেউ অগভীর পড়াশোনা আর স্বীয় রায়ের উপর আত্মপ্রশান্ত হয়ে থাকে।
কিন্তু আফসোসের বিষয় হয়, এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা নিজেই এ রোগের রোগী। আল্লাহ তাআলা এবং তার রাসূল সাঃ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, কুরআন ও হাদীসের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রাজ্ঞ ফক্বীহদের কথা গ্রহণযোগ্য। উম্মতের মাঝে এটাই একমাত্র দল। যাদের সিদ্ধান্ত সঠিক হলে সওয়াব দু’টি আর ভুল হলে সওয়াব একটি হয়ে থাকে। তাই ফক্বহী ও তাদের মুকাল্লিদের কোন ভয় নেই। তাদের দ্বীনী আমল সুনিশ্চিতভাবে কবুল হবে। একটি সওয়াব সুনিশ্চিত আরেকটি পাওয়ারও আশা রয়েছে।
তবে এখানে ফক্বীহ দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সকল ফক্বীহ, যারা শরয়ী দলীল তথা ইজমায়ে উম্মত অর্থাৎ উম্মতের ঐক্যমত্বের ভিত্তিতে ফক্বীহ হওয়া স্বীকৃত। যদি শরয়ী দলীলের ভিত্তিতে ফক্বীহ না হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিষয়টি ভিন্ন।
কুরআন গবেষণা
এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা বলেনঃ “কুরআন সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণ কিতাব। এটি একটি আনন্দসূচক কথাতো অবশ্যই। কিন্তু আসলে তাতে কিছুই নেই। তাতে না নামাযের পদ্ধতি আছে। না আমলের। তারপরও এটি পরিপূর্ণ কিতাব। এটি একটি অত্যাশ্চর্য ব্যাপার”। {তাফহীম-২২৬}
তিনি আরো বলেনঃ “কুরআনের ইসলামতো খুবই সহজ। দুআ চেয়ে নিলেই নামায আদায় হয়ে যায়। পবিত্রতা অর্জন করে নাও তো যাকাত আদায় হয়ে যাবে। নামাযে থাকা অবস্থায় বাতাস বের হয়ে গেলেও অজু ঠিক থাকবে। নাচ-গানের মাহফিল আয়োজন কর, কোন সমস্যা নেই। সুক্ষাতিসুক্ষè বিষয়ে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় গবেষণা কর, কোন সমস্যা নেই। তাস, দাবা খেলে মজা কর, কোন অসুবিধা নেই। বেশ্যাখানা খোল কোন নিষিদ্ধতা নেই। {তাফহীম-২৩২}
কুরআনে কারীমে উলঙ্গতার শিক্ষা আছে। [নাউজুবিল্লাহ!] {প্রাগুক্ত-২৪৬}
এবার কোন কাফের একথা বলতে পারে যে, এ ফিরক্বার ঘর কুরআনের এ কথিত ইসলাম থেকে খালি? আসল কথা হল, এ ফিরক্বার প্রতিটি সদস্য মূলত এ কথিত উলঙ্গতার আলিঙ্গন পাওয়ার লালসায়ই এই নব মুসলিম সেজেছে।
এরাই সেসব মুসলমান! যাদের দেখে ইহুদী-খৃষ্টানরাও লজ্জা পায়।
তিনি আরো জোশের সাথে বলেছেনঃ “কুরআনে কারীমেও এমন আয়াত পাওয়া যায়, যা দ্বারা বাহ্যিকভাবে রাসূল সাঃ এর মর্যাদা বিষয়ে ধোঁকা খেতে হয়”। {প্রাগুক্ত-৩৪৭}
“এ আয়াত এবং অন্য আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, রাসূল সাঃ মাআজাল্লাহ গোনাহগার ছিলেন। এ আয়াত দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, রাসূল সাঃ ইসলামী শরীয়তের মাঝে পরিবর্তন করে ফেলতেন। সেটাও আবার নিজের স্ত্রীদের সন্তুষ্ট করার জন্য। উপরোক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল যে, ইসলাম হিংসাকে খুবই পছন্দ করে থাকে। এর দ্বারা ইসলামের দুশমনদের জন্য ইসলামের উপর ঠাট্টা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হচ্ছে না? ”{প্রাগুক্ত-২৪৮}
তিনি আরে বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ লোকদের হিসাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অথচ সে এখনো গাফলতীতে নিমজ্জিত আছে। আল্লাহ তাআলাতো বলছেন যে, হিসাবের সময় সন্নিকটে। কিন্তু কাল সাক্ষ্যি যে, প্রায় এক হাজার চার শত বছর অতিক্রন্ত হয়ে গেছে কিন্তু হিসাবের দিন এখনো আসেনি। এটা কেমন সন্নিকটে হল?”। {প্রাগুক্ত-২৬৪}
“কুরআনে পাকের অকাট্যতার ব্যাপারেতো কুরআনের আয়াত দ্বারাই চোট লেগে যায়।” {প্রাগুক্ত-২৫৫}
তিনি আরো লিখেনঃ “কেউ মুসলমান থেকেও কুরআনে পাককে অস্বিকার করতে পারে। সে বলতে পারে যে, আমি আল্লাহ তাআলাকে এক বিশ্বাস করি, ফেরেস্তা, আসমানী কিতাব এবং রাসূলদের উপর ঈমান রাখি। কিন্তু এ কুরআন সেই কুরআন নয় যেটা আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন। এতে বিকৃতি সাধিত হয়েছে। আর মুসলমানদের এক বিরাট অংশ এ বিকৃতিকে বিশ্বাস করে থাকে। আর খোদ কুরআনে কারীমের ইবারতও এর উপর সাক্ষ্যি। [নাউজুবিল্লাহ]{প্রাগুক্ত-২৬৯}
এ ফিরক্বার এসব বক্তব্য পড়ার পর মাথায় চক্কর খেয়ে যায়। হায়! হানাফী শাফেয়ী নাকি অমুসলিম। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে বিকৃত গ্রন্থ বলছে কুরআনকে অকাট্য নয় বরে বিশ্বাস করছে, আর রাসূল সাঃ কে কুরআন পাকও বলছে না এমন ব্যক্তি ও নাকি মুসলিম!
তিনি আরো বলেনঃ “কুরআনের ইসলামতো খুবই সহজ। দুআ চেয়ে নিলেই নামায আদায় হয়ে যায়। পবিত্রতা অর্জন করে নাও তো যাকাত আদায় হয়ে যাবে। নামাযে থাকা অবস্থায় বাতাস বের হয়ে গেলেও অজু ঠিক থাকবে। নাচ-গানের মাহফিল আয়োজন কর, কোন সমস্যা নেই। সুক্ষাতিসুক্ষè বিষয়ে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় গবেষণা কর, কোন সমস্যা নেই। তাস, দাবা খেলে মজা কর, কোন অসুবিধা নেই। বেশ্যাখানা খোল কোন নিষিদ্ধতা নেই। {তাফহীম-২৩২}
কুরআনে কারীমে উলঙ্গতার শিক্ষা আছে। [নাউজুবিল্লাহ!] {প্রাগুক্ত-২৪৬}
এবার কোন কাফের একথা বলতে পারে যে, এ ফিরক্বার ঘর কুরআনের এ কথিত ইসলাম থেকে খালি? আসল কথা হল, এ ফিরক্বার প্রতিটি সদস্য মূলত এ কথিত উলঙ্গতার আলিঙ্গন পাওয়ার লালসায়ই এই নব মুসলিম সেজেছে।
এরাই সেসব মুসলমান! যাদের দেখে ইহুদী-খৃষ্টানরাও লজ্জা পায়।
তিনি আরো জোশের সাথে বলেছেনঃ “কুরআনে কারীমেও এমন আয়াত পাওয়া যায়, যা দ্বারা বাহ্যিকভাবে রাসূল সাঃ এর মর্যাদা বিষয়ে ধোঁকা খেতে হয়”। {প্রাগুক্ত-৩৪৭}
“এ আয়াত এবং অন্য আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, রাসূল সাঃ মাআজাল্লাহ গোনাহগার ছিলেন। এ আয়াত দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, রাসূল সাঃ ইসলামী শরীয়তের মাঝে পরিবর্তন করে ফেলতেন। সেটাও আবার নিজের স্ত্রীদের সন্তুষ্ট করার জন্য। উপরোক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল যে, ইসলাম হিংসাকে খুবই পছন্দ করে থাকে। এর দ্বারা ইসলামের দুশমনদের জন্য ইসলামের উপর ঠাট্টা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হচ্ছে না? ”{প্রাগুক্ত-২৪৮}
তিনি আরে বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ লোকদের হিসাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অথচ সে এখনো গাফলতীতে নিমজ্জিত আছে। আল্লাহ তাআলাতো বলছেন যে, হিসাবের সময় সন্নিকটে। কিন্তু কাল সাক্ষ্যি যে, প্রায় এক হাজার চার শত বছর অতিক্রন্ত হয়ে গেছে কিন্তু হিসাবের দিন এখনো আসেনি। এটা কেমন সন্নিকটে হল?”। {প্রাগুক্ত-২৬৪}
“কুরআনে পাকের অকাট্যতার ব্যাপারেতো কুরআনের আয়াত দ্বারাই চোট লেগে যায়।” {প্রাগুক্ত-২৫৫}
তিনি আরো লিখেনঃ “কেউ মুসলমান থেকেও কুরআনে পাককে অস্বিকার করতে পারে। সে বলতে পারে যে, আমি আল্লাহ তাআলাকে এক বিশ্বাস করি, ফেরেস্তা, আসমানী কিতাব এবং রাসূলদের উপর ঈমান রাখি। কিন্তু এ কুরআন সেই কুরআন নয় যেটা আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন। এতে বিকৃতি সাধিত হয়েছে। আর মুসলমানদের এক বিরাট অংশ এ বিকৃতিকে বিশ্বাস করে থাকে। আর খোদ কুরআনে কারীমের ইবারতও এর উপর সাক্ষ্যি। [নাউজুবিল্লাহ]{প্রাগুক্ত-২৬৯}
এ ফিরক্বার এসব বক্তব্য পড়ার পর মাথায় চক্কর খেয়ে যায়। হায়! হানাফী শাফেয়ী নাকি অমুসলিম। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে বিকৃত গ্রন্থ বলছে কুরআনকে অকাট্য নয় বরে বিশ্বাস করছে, আর রাসূল সাঃ কে কুরআন পাকও বলছে না এমন ব্যক্তি ও নাকি মুসলিম!
ফিরক্বাটির প্রতিষ্ঠাতা এবং সুন্নত
হাদীসের যতগুলো সনদযুক্ত কিতাব বর্তমান জমানায় পাওয়া যায়, তাদের সংকলকগণ হয়তো মুজতাহিদ যেমন ইমামে আজম আবু হানীফা রহঃ, কাজী আবু ইউসুফ রহঃ, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ, ইমাম মালিক রহঃ, ইমাম শাফেয়ী রহঃ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ প্রমূখগণ। যাদেরকে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা শরীয়ত বিকৃতিকারী বলে মন্তব্য করে থাকে। আর শরীয়ত বিকৃতি করা কুফরী এবং শিরক। তাদের উপর কুরআনের আহবার এবং রুহবানের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট আয়াত ফিট করে থাকে।
কিংবা সনদযুক্ত হাদীস সংকলকগণ মুকাল্লিদ। যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তাবাক্বাতে হানাফিয়্যাহ, তবাক্বাতে মালিকিয়্যাহ, তবাক্বাতে শাফিয়িয়্যাহ এবং তবাক্বাতে হানাবেলাতে। তাদেরকে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা মুশরিক ও অমুসলিম বলে থাকে। আর অমুসলিমদের সংকলিত কিতাব ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার কাছে অগ্রহণীয় ও অনির্ভরযোগ্য হওয়ার কথা। আর মুকাদ্দিমায়ে মুসলিমের ১১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, হাদীসের রাবীগণ আহলে সুন্নত, যারা ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার কাছে অমুসলিম।
ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা সাহেব শুধুমাত্র একটি হাদীস পেশ করতে পারবে না, যে হাদীসের প্রতিটি রাবীর ক্ষেত্রে একথা প্রমাণ করতে পারবে যে, তিনি মুজতাহিদও ছিলেন না, আবার কারো তাকলীদও করতেন না, বরং তিনি গায়রে মুকাল্লিদ ছিলেন। এমন একজন রাবীর নাম উচ্চারণ করতে পারবে না।
কিংবা সনদযুক্ত হাদীস সংকলকগণ মুকাল্লিদ। যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তাবাক্বাতে হানাফিয়্যাহ, তবাক্বাতে মালিকিয়্যাহ, তবাক্বাতে শাফিয়িয়্যাহ এবং তবাক্বাতে হানাবেলাতে। তাদেরকে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা মুশরিক ও অমুসলিম বলে থাকে। আর অমুসলিমদের সংকলিত কিতাব ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার কাছে অগ্রহণীয় ও অনির্ভরযোগ্য হওয়ার কথা। আর মুকাদ্দিমায়ে মুসলিমের ১১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, হাদীসের রাবীগণ আহলে সুন্নত, যারা ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার কাছে অমুসলিম।
ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা সাহেব শুধুমাত্র একটি হাদীস পেশ করতে পারবে না, যে হাদীসের প্রতিটি রাবীর ক্ষেত্রে একথা প্রমাণ করতে পারবে যে, তিনি মুজতাহিদও ছিলেন না, আবার কারো তাকলীদও করতেন না, বরং তিনি গায়রে মুকাল্লিদ ছিলেন। এমন একজন রাবীর নাম উচ্চারণ করতে পারবে না।
হাদীস পর্যালোচনা
হাদীস বিষয়ে তিনটি বিষয় পর্যালোচনা যোগ্য। যথা-
১
এটি রাসূল সাঃ থেকে প্রমানিত হতে হবে।
২
এ হাদীসের যে অর্থ আমরা বুঝতে পেরেছি, সেটি রাসূল সাঃ এর উদ্দেশ্য হতে হবে।
৩
এ হাদীস যদি কোন আয়াত বা হাদীস কিংবা কোন আমলে সাথে বিপরীতমুখী হয়, তাহলে তা সমাধান তালাশ করতে হবে।
আর তিনটি কাজই করতে হবে দলীলের ভিত্তিতে। দলীল হলে হবে না।
ফিরক্বাটির প্রতিষ্ঠাতার কাছে দলীল কেবল কুরআন ও হাদীস। অর্থাৎ আল্লাহর ফরমান বা রাসূল সাঃ এর বয়ান তথা বর্ণনা হবে। তাই ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার উপর আবশ্যক ছিল যে, তিনি যে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ ইত্যাদি বলে থাকেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর ফরমান নকল করবেন যে, এ হাদীস সহীহ আর এ হাদীস জঈফ।
মুহাদ্দিসীনে কেরাম যে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ বলেছেন, এসব তারা বলেছেন, তাদের নিজেদের রায় এবং ইজতিহাদের ভিত্তিতে। আর ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা লিখেছেন যে, “কোন ব্যক্তির ইজতিহাদ ও কিয়াস না সেটি আল্লাহর স্থানে না শরীয়তের কোন মূল ভিত্তি।” {জামাআতুল মুসলিমীন আওর আহলে হাদীস-৪}
এতদসত্বেও ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা একটি হাদীসের সহীহ-জঈফ হওয়ার উপর আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর কোন বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেনি। খাইরুল কুরুনের পরবর্তী উম্মতীরা যাকে নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে সহীহ এবং জঈফ বলছেন। সে তাদেরই অন্ধ তাকলীদ করছে। তারপরও দৃঢ়তার সাথে লিখেছেঃ “জামাআতুল মুসলিমীন আল্লাহর রহমাতে তাকলীদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আমরা সেসব কাজই কেবল করে থাকি, যা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আমাদের এখানে কিয়াস ও রায়ের দ্বারা মাসআলা হয় না। তাই আমাদের তাকলীদের প্রয়োজনই নেই। {প্রাগুক্ত-৭}
তাকলীদের সাগরে ডুব দিয়ে বলছে যে, তাকলীদ তারা করে না। তাদের নিকট মুজতাহিদ ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর তাকলীদতো শিরক। কিন্তু তাদের মুকাল্লিদ ইবনে হাজার রহঃ এবং ইমাম নববী রহঃ প্রমূখদের তাকলীদ করা ফরজে আইন।
আশ্চর্য ব্যাপার! হাজারকে মানা শিরক আর হাজারের ছেলেকে মানা ঈমান?!
হাদীস পর্যালোচনায় দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয় হল এর উদ্দেশ্য বুঝা। শুধুমাত্র তা প্রমাণিত হওয়া যথেষ্ট নয়। যতক্ষন পর্যন্ত না এর সঠিক উদ্দেশ্য বুঝা না যাবে।
দেখুন! যেসব আয়াত দ্বারা কাদিয়ানীরা খতমে নবুওয়াতকে অস্বিকার করা এবং ঈসা আঃ এর মৃত্যুর কথা বলে থাকে, এবং আহলে কুরআনের অনুসারীরা হাদীসকে অস্বিকার করে থাকে সেসব হাদীসের প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। শুধুমাত্র তার উদ্দেশ্যের মাঝে মতভেদ।
মুহাদ্দিসীনে কেরাম শুধুমাত্র নিজের রায় অনুযায়ী কিছু হাদীসকে সহীহ আর কিছু হাদীসকে জঈফ বলেছেন। কিন্তু অন্য দুই বিষয়ের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসীনদের নিজস্ব রায়ের কোন দখল নেই। সেই দুই বিষয়ের তাহক্বীক করা ফুক্বাহায়ে কেরামের জিম্মাদারী।
ইমাম বুখারী রহঃ বলেনঃ الفقه ثمرة الحديث তথা ফিক্বহ হল হাদীসেরই ফল। ইমাম তিরমিজী রহঃ বলেনঃ ফুক্বাহায়ে কেরাম এমনটি বলেছেন, আর ফুক্বাহায়ে কেরাম হাদীসের অর্থ বেশি বুঝতেন। {তিরমিজী}
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ رب حامل فقه غير فقيه তথা অনেক ফিক্বহ বহনকারী ফক্বীহ হয় না। {কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৯০০৪, মাযমাউজ যাওয়াদ, হাদীস নং-১৮৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২১৫৯০}
ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা ফক্বীহদের শরীয়ত বিকৃতিকারী বলে থাকে, অথচ সে নিজেই হাদীসের উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে নিজের রায় আর শরীয়ত বিকৃত করে যাচ্ছে। হাতির দাঁত খাওয়ার জন্য আবার দেখানোর জন্য এ উপমাটি সে পূর্ণ করে দিল।
তার উপর দায়িত্ব ছিল, যেখানে কুরআন ও হাদীসের উদ্দেশ্য বুঝার ক্ষেত্রে উম্মতীদের মাঝে মতভেদ হয়ে গেছে সেখানে সে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ থেকে তার বর্ণিত উদ্দেশ্য প্রমাণ করে দেখাবে।
এটাতো তার সাধ্যের বাইরের বিষয়, কিন্তু সে তার নিজের বুঝকে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর সমঝের মত মনে থাকে। সে সমস্ত উম্মতীদের ব্যাপারে বলে থাকে যে, তাদের থেকে শুধু ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই নেই, তাদের সবারই ভুল হয়েছে। কিন্তু তার নিজের বুঝকে ভুল থেকে মুক্ত মনে করে। যে উল্টা-পাল্টা কথা তার মনে হয়েছে, সেটাকেই আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর বক্তব্য চালিয়ে দিচ্ছে। যদি কেউ তার মনগড়া বক্তব্যকে না মানে, তাহলে সে একথা বলে না যে, উক্ত ব্যক্তি তার বুঝ ও সমঝকে অস্বিকার করছে। বরং সে দাম্ভিকতার সাথে বলে থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূল সাঃ কে অস্বিকার করছে। তার এ বিদআতি মতবাদকে অস্বিকারকারীদের আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর অস্বিকারকারী সাব্যস্ত করছে।
এমনিভাবে হাদীস পর্যালোচনার তৃতীয় অংশ তথা হাদীসের পারস্পরিক বাহ্যিক বৈপরীত্ব নিরসন করার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি খুবই অবাক করা। সে হাদীসের ভুল অনুবাদ করে হাদীসের মাঝে প্রকৃত বৈপরীত্ব স্থাপন করে ফেলছে। সেই সাথে যেসব হাদীস তার এ ভুল অনুবাদের বিপরীত হবে, সব ক’টিকে সে হাদীস হওয়ার কথাই অস্বিকার করে বসে।
১
এটি রাসূল সাঃ থেকে প্রমানিত হতে হবে।
২
এ হাদীসের যে অর্থ আমরা বুঝতে পেরেছি, সেটি রাসূল সাঃ এর উদ্দেশ্য হতে হবে।
৩
এ হাদীস যদি কোন আয়াত বা হাদীস কিংবা কোন আমলে সাথে বিপরীতমুখী হয়, তাহলে তা সমাধান তালাশ করতে হবে।
আর তিনটি কাজই করতে হবে দলীলের ভিত্তিতে। দলীল হলে হবে না।
ফিরক্বাটির প্রতিষ্ঠাতার কাছে দলীল কেবল কুরআন ও হাদীস। অর্থাৎ আল্লাহর ফরমান বা রাসূল সাঃ এর বয়ান তথা বর্ণনা হবে। তাই ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতার উপর আবশ্যক ছিল যে, তিনি যে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ ইত্যাদি বলে থাকেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর ফরমান নকল করবেন যে, এ হাদীস সহীহ আর এ হাদীস জঈফ।
মুহাদ্দিসীনে কেরাম যে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ বলেছেন, এসব তারা বলেছেন, তাদের নিজেদের রায় এবং ইজতিহাদের ভিত্তিতে। আর ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা লিখেছেন যে, “কোন ব্যক্তির ইজতিহাদ ও কিয়াস না সেটি আল্লাহর স্থানে না শরীয়তের কোন মূল ভিত্তি।” {জামাআতুল মুসলিমীন আওর আহলে হাদীস-৪}
এতদসত্বেও ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা একটি হাদীসের সহীহ-জঈফ হওয়ার উপর আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর কোন বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেনি। খাইরুল কুরুনের পরবর্তী উম্মতীরা যাকে নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে সহীহ এবং জঈফ বলছেন। সে তাদেরই অন্ধ তাকলীদ করছে। তারপরও দৃঢ়তার সাথে লিখেছেঃ “জামাআতুল মুসলিমীন আল্লাহর রহমাতে তাকলীদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আমরা সেসব কাজই কেবল করে থাকি, যা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আমাদের এখানে কিয়াস ও রায়ের দ্বারা মাসআলা হয় না। তাই আমাদের তাকলীদের প্রয়োজনই নেই। {প্রাগুক্ত-৭}
তাকলীদের সাগরে ডুব দিয়ে বলছে যে, তাকলীদ তারা করে না। তাদের নিকট মুজতাহিদ ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর তাকলীদতো শিরক। কিন্তু তাদের মুকাল্লিদ ইবনে হাজার রহঃ এবং ইমাম নববী রহঃ প্রমূখদের তাকলীদ করা ফরজে আইন।
আশ্চর্য ব্যাপার! হাজারকে মানা শিরক আর হাজারের ছেলেকে মানা ঈমান?!
হাদীস পর্যালোচনায় দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয় হল এর উদ্দেশ্য বুঝা। শুধুমাত্র তা প্রমাণিত হওয়া যথেষ্ট নয়। যতক্ষন পর্যন্ত না এর সঠিক উদ্দেশ্য বুঝা না যাবে।
দেখুন! যেসব আয়াত দ্বারা কাদিয়ানীরা খতমে নবুওয়াতকে অস্বিকার করা এবং ঈসা আঃ এর মৃত্যুর কথা বলে থাকে, এবং আহলে কুরআনের অনুসারীরা হাদীসকে অস্বিকার করে থাকে সেসব হাদীসের প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। শুধুমাত্র তার উদ্দেশ্যের মাঝে মতভেদ।
মুহাদ্দিসীনে কেরাম শুধুমাত্র নিজের রায় অনুযায়ী কিছু হাদীসকে সহীহ আর কিছু হাদীসকে জঈফ বলেছেন। কিন্তু অন্য দুই বিষয়ের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসীনদের নিজস্ব রায়ের কোন দখল নেই। সেই দুই বিষয়ের তাহক্বীক করা ফুক্বাহায়ে কেরামের জিম্মাদারী।
ইমাম বুখারী রহঃ বলেনঃ الفقه ثمرة الحديث তথা ফিক্বহ হল হাদীসেরই ফল। ইমাম তিরমিজী রহঃ বলেনঃ ফুক্বাহায়ে কেরাম এমনটি বলেছেন, আর ফুক্বাহায়ে কেরাম হাদীসের অর্থ বেশি বুঝতেন। {তিরমিজী}
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ رب حامل فقه غير فقيه তথা অনেক ফিক্বহ বহনকারী ফক্বীহ হয় না। {কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৯০০৪, মাযমাউজ যাওয়াদ, হাদীস নং-১৮৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২১৫৯০}
ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা ফক্বীহদের শরীয়ত বিকৃতিকারী বলে থাকে, অথচ সে নিজেই হাদীসের উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে নিজের রায় আর শরীয়ত বিকৃত করে যাচ্ছে। হাতির দাঁত খাওয়ার জন্য আবার দেখানোর জন্য এ উপমাটি সে পূর্ণ করে দিল।
তার উপর দায়িত্ব ছিল, যেখানে কুরআন ও হাদীসের উদ্দেশ্য বুঝার ক্ষেত্রে উম্মতীদের মাঝে মতভেদ হয়ে গেছে সেখানে সে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ থেকে তার বর্ণিত উদ্দেশ্য প্রমাণ করে দেখাবে।
এটাতো তার সাধ্যের বাইরের বিষয়, কিন্তু সে তার নিজের বুঝকে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর সমঝের মত মনে থাকে। সে সমস্ত উম্মতীদের ব্যাপারে বলে থাকে যে, তাদের থেকে শুধু ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই নেই, তাদের সবারই ভুল হয়েছে। কিন্তু তার নিজের বুঝকে ভুল থেকে মুক্ত মনে করে। যে উল্টা-পাল্টা কথা তার মনে হয়েছে, সেটাকেই আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর বক্তব্য চালিয়ে দিচ্ছে। যদি কেউ তার মনগড়া বক্তব্যকে না মানে, তাহলে সে একথা বলে না যে, উক্ত ব্যক্তি তার বুঝ ও সমঝকে অস্বিকার করছে। বরং সে দাম্ভিকতার সাথে বলে থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূল সাঃ কে অস্বিকার করছে। তার এ বিদআতি মতবাদকে অস্বিকারকারীদের আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর অস্বিকারকারী সাব্যস্ত করছে।
এমনিভাবে হাদীস পর্যালোচনার তৃতীয় অংশ তথা হাদীসের পারস্পরিক বাহ্যিক বৈপরীত্ব নিরসন করার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি খুবই অবাক করা। সে হাদীসের ভুল অনুবাদ করে হাদীসের মাঝে প্রকৃত বৈপরীত্ব স্থাপন করে ফেলছে। সেই সাথে যেসব হাদীস তার এ ভুল অনুবাদের বিপরীত হবে, সব ক’টিকে সে হাদীস হওয়ার কথাই অস্বিকার করে বসে।
উপমা
হাদীসে রয়েছে যে, রাসূল সাঃ জুতা পরিধান করে নামায পড়তেন। এটি মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে। প্রায় ৫৬ জন সাহাবী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে একটি গায়রে মুতাওয়াতির হাদীসে রয়েছে যে, রাসূল সাঃ জুতা পরিধান করা ছাড়াও নামায পড়েছেন। এ হাদীস যদিও সনদের দিক থেকে মুতাওয়াতির নয়। কিন্তু উম্মতের মাঝে আমল হিসেবে এ হাদীস মুতাওয়াতির। আর এ দুই হাদীসের মাঝে মূলত কোন বৈপরীত্বও নেই। কিন্তু যদি প্রথম হাদীসটির অনুবাদ এই করা হয় যে, “রাসূল সাঃ সর্বদাই জুতা পরিধান করে নামায পড়তেন, জীবনে কোনদিন জুতা খুলে নামায পড়েননি। যে ব্যক্তি জুতা খুলে নামায পড়বে, সে নবীওয়ালা নামায পড়ে না”। এ অনুবাদকারী ব্যক্তি শুধু রাসূল সাঃ এর উপরই শুধু মিথ্যাচার করছে না, বরং সাথে সাথে অন্য হাদীসকেও অস্বিকার করছে।
এমনিভাবে রাসূল সাঃ তাহরীমার পর রফয়ে ইয়াদাইন করেছিলেন। তিনি তাহরীমার পর রফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। দুই সময়ে এই আমল হলে এতে কোন বৈপরীত্ব নেই। কিন্তু যদি কেউ এ মিথ্যা কথা বলে যে, রাসূল সাঃ তাকবীরে তাহরীমার পর সর্বদা রফয়ে ইয়াদাইন করতেন। জীবনে একটি নামাযও তাকবীরে তাহরিমার পর রফয়ে ইয়াদাইন ছাড়া পড়েননি।
একথা বলা শুধু রাসূল সাঃ এর দিকে মিথ্যাচার করার সাথে সাথে রফয়ে ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়ার হাদীসকে অস্বিকার করাও হয়ে থাকে।
আমরা ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতাকে বলে থাকি যে, তুমি সর্বদা রফয়ে ইয়াদাইন করার মিথ্যা বলা ছেড়ে দাও, তাহলে তোমার হাদীসের মাঝে কোন বৈপরীত্ব ও দৃষ্টিগোচর হবে না, সেই সাথে অন্য হাদীসকে অস্বিকার করাও হবে না।
কিন্তু সে তা না মেনে জিদ করে বশে যে, “না আমি এ মিথ্যা বলা ছাড়বো, তবে প্রত্যেক ঐ হাদীস যেটা আমার এ মিথ্যার বিপরীত হবে, আমি সেটাকে মিথ্যা বলে বেড়াবো, কিন্তু নিজের মিথ্যার উপর অটল থেকে যাবো”।
এমনিভাবে রাসূল সাঃ তাহরীমার পর রফয়ে ইয়াদাইন করেছিলেন। তিনি তাহরীমার পর রফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। দুই সময়ে এই আমল হলে এতে কোন বৈপরীত্ব নেই। কিন্তু যদি কেউ এ মিথ্যা কথা বলে যে, রাসূল সাঃ তাকবীরে তাহরীমার পর সর্বদা রফয়ে ইয়াদাইন করতেন। জীবনে একটি নামাযও তাকবীরে তাহরিমার পর রফয়ে ইয়াদাইন ছাড়া পড়েননি।
একথা বলা শুধু রাসূল সাঃ এর দিকে মিথ্যাচার করার সাথে সাথে রফয়ে ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়ার হাদীসকে অস্বিকার করাও হয়ে থাকে।
আমরা ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতাকে বলে থাকি যে, তুমি সর্বদা রফয়ে ইয়াদাইন করার মিথ্যা বলা ছেড়ে দাও, তাহলে তোমার হাদীসের মাঝে কোন বৈপরীত্ব ও দৃষ্টিগোচর হবে না, সেই সাথে অন্য হাদীসকে অস্বিকার করাও হবে না।
কিন্তু সে তা না মেনে জিদ করে বশে যে, “না আমি এ মিথ্যা বলা ছাড়বো, তবে প্রত্যেক ঐ হাদীস যেটা আমার এ মিথ্যার বিপরীত হবে, আমি সেটাকে মিথ্যা বলে বেড়াবো, কিন্তু নিজের মিথ্যার উপর অটল থেকে যাবো”।
হাদীসের পোষ্ট মর্টেম
হাদীসের সহীহ বা জঈফ বলার জন্যতো জরুরী ছিল যে, আল্লাহ ও রাসূল সাঃ থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করবে। কিন্তু সেটাতো তার সাধ্যের বাইরের বিষয়। আসমাউর রিজাল এবং উম্মতীদের রায়ের উপর ভিত্তিশীল হাদীস ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও অনেক খেয়ানত করেছে সে। সামান্য সামান্য বিষয়ে সে হাদীসকে মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছে যে, হাদীসটিতে ইনকিতা আছে।
প্রথথমতঃ ইনকিতা এর জারহ এর ব্যাপারেও যথেষ্ট মতভেদ আছে। যারাও একে জারাহ বিশ্বাস করে থাকেন, তারাও বলেন যে, এ জারাহ মুতাবিআত ও শাওয়াহেদ দ্বারা শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু এ জালিম সহীহ হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য কোন মূলনীতির তোয়াক্কা করেনি। তার কাছে একটি প্রশ্ন করিঃ “তাবেয়ীন রহঃ সম্পর্কে তোমার খারাপ ধারণা এতটাই প্রবল যে, তুমি তাদের মুরসাল শাওয়াহেদ ও মুতাবিআত এর পরও তা দলীল হয় না। তাহলে তোমার কাছে বুখারীর [মৃত্যু-১৫৬] এর সনদহীন তালীক দলীল হয় কি করে?
জারাহ-তাদীলের কিতাব তাফহীমুল ইসলামের ভিত্তি মূলত দুই কিতারেব উপর রাখা হয়। একটি হল, ইবনে হাজার রহঃ {মৃত্যু ৮৫২ হিজরী] এর তাকরীবুত তাহজীব এবং শরফুদ্দীন গায়রে মুকাল্লিদের {মৃত্যু-১৩৮১ হিজরী] এর কিতাব বুরুকে ইসলাম।
উভয়জন এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার কাছে গায়রে মুসলিম। এর উপর এমন অন্ধ তাকলীদ তার যে, প্রথম নয় শতাব্দীর মাঝে রাবীকে দলীল ছাড়াই জঈফ বলে বেড়াচ্ছে। সনদহীন বর্ণনা করা হচ্ছে। কিন্তু হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জযবায় আট শতাব্দীর ইনকিতা তথা বিচ্ছিন্নতা দৃষ্টিগোচর হয় না।
দ্বিতীয়জন প্রথম চৌদ্দ শতাব্দীতে এসে প্রথম শতাব্দীর রাবীদের দলীলহীন এবং সনদহীন জারাহ নকল করে যাচ্ছে। কিন্তু তেরশত বছরের বিচ্ছিন্ন তথা ইনকিতা দৃষ্টিতে পড়ছে না।
খাইরুল কুরূনের সাথে দুশমনীর এর চেয়ে নিকৃষ্ট উপমা আর হতে পারে না।
আপনি কোন আয়াত বা হাদীসতো পেশ করুন, যাতে বলা হয়েছে যে, আট বছরের ইনকিতা গ্রহণীয় নয়, তবে আট শত সালের ইনকিতা গ্রহণীয়। আর তের তিনের ইনকিতা গ্রহণীয় নয়, কিন্তু তেরশত বছরের ইনকিতা গ্রহণীয়!
মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এ ব্যক্তি প্রকাশ্য মুনকিরীনের হাদীসকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।
প্রথথমতঃ ইনকিতা এর জারহ এর ব্যাপারেও যথেষ্ট মতভেদ আছে। যারাও একে জারাহ বিশ্বাস করে থাকেন, তারাও বলেন যে, এ জারাহ মুতাবিআত ও শাওয়াহেদ দ্বারা শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু এ জালিম সহীহ হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য কোন মূলনীতির তোয়াক্কা করেনি। তার কাছে একটি প্রশ্ন করিঃ “তাবেয়ীন রহঃ সম্পর্কে তোমার খারাপ ধারণা এতটাই প্রবল যে, তুমি তাদের মুরসাল শাওয়াহেদ ও মুতাবিআত এর পরও তা দলীল হয় না। তাহলে তোমার কাছে বুখারীর [মৃত্যু-১৫৬] এর সনদহীন তালীক দলীল হয় কি করে?
জারাহ-তাদীলের কিতাব তাফহীমুল ইসলামের ভিত্তি মূলত দুই কিতারেব উপর রাখা হয়। একটি হল, ইবনে হাজার রহঃ {মৃত্যু ৮৫২ হিজরী] এর তাকরীবুত তাহজীব এবং শরফুদ্দীন গায়রে মুকাল্লিদের {মৃত্যু-১৩৮১ হিজরী] এর কিতাব বুরুকে ইসলাম।
উভয়জন এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার কাছে গায়রে মুসলিম। এর উপর এমন অন্ধ তাকলীদ তার যে, প্রথম নয় শতাব্দীর মাঝে রাবীকে দলীল ছাড়াই জঈফ বলে বেড়াচ্ছে। সনদহীন বর্ণনা করা হচ্ছে। কিন্তু হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জযবায় আট শতাব্দীর ইনকিতা তথা বিচ্ছিন্নতা দৃষ্টিগোচর হয় না।
দ্বিতীয়জন প্রথম চৌদ্দ শতাব্দীতে এসে প্রথম শতাব্দীর রাবীদের দলীলহীন এবং সনদহীন জারাহ নকল করে যাচ্ছে। কিন্তু তেরশত বছরের বিচ্ছিন্ন তথা ইনকিতা দৃষ্টিতে পড়ছে না।
খাইরুল কুরূনের সাথে দুশমনীর এর চেয়ে নিকৃষ্ট উপমা আর হতে পারে না।
আপনি কোন আয়াত বা হাদীসতো পেশ করুন, যাতে বলা হয়েছে যে, আট বছরের ইনকিতা গ্রহণীয় নয়, তবে আট শত সালের ইনকিতা গ্রহণীয়। আর তের তিনের ইনকিতা গ্রহণীয় নয়, কিন্তু তেরশত বছরের ইনকিতা গ্রহণীয়!
মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এ ব্যক্তি প্রকাশ্য মুনকিরীনের হাদীসকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।
ইমাম আজম আবু হানীফা রহঃ
ইতোপূর্বে আমি একথা উল্লেখ করেছি যে, হাদীসের পর্যালোচনার জন্য তিনটি বিষয়ের প্রয়োজন। যথা-১- হাদীস প্রমাণীত হওয়ার তাহকীক করা। ২- দালালতে হাদীস তথা হাদীসের মর্মার্থের তাহকীক। ৩- হাদীসের বাহ্যিক বৈপরীত্ব নিরসন।
এ তিনটি বিষয়ের কোনটি কুরআন ও হাদীসে বিদ্যমান নয়। এ কারণে আমরা উম্মতীদের প্রতি মুখাপেক্ষী।
মুহাদ্দিসীনে কেরাম শুধু প্রথম বিষয়টির উপর নিজেদের রায় দিয়েছেন।
তবে হ্যাঁ, ফুক্বাহায়ে কেরাম এবং মুজতাহিদীনগণ তিনটি বিষয়েরই পরিপূর্ণ তাহকীক করে তার নির্যাস থেকে আমলযোগ্য মাসআলাকে উপস্থাপন করে দিয়েছেন্ হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এর প্রসিদ্ধ হাদীস অনুপাতে যে বিষয় কিতাবুল্লাহ ও সুন্নতে না পাওয়া যায় তাতে ইজতিহাদের ভিত্তিতে ফায়সালা হবে। এ কারণেই আমরা উক্ত তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর তাকলীদ করে থাকি। কিন্তু মাসঊদী ফিরক্বারা মাসউদের মত অযোগ্য ব্যক্তির কথার তাকলীদ করে থাকে। তাদের দু’জনের মাঝে কি বিস্তর ফারাক।
এ ব্যাপারে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার নিজের স্বীকারোক্তিটি একটু পড়ে নিন-
এক ব্যক্তি তাকে চিঠি লিখলঃ “আমি আল্লাহর রহমাতে হানাফী। কুরআনে কারীম, রাসূল সাঃ এর সুন্নত এবং সাহাবায়ে কেরামের মত ও পথের পর ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর অনুসরণ করে থাকি। আর নিজেকে হানাফী বলে থাকি। আল্লাহর রহমাতে আমি সন্তুষ্ট। তবে হানাফী হওয়াকে আমি ঈমানের অংশ মনে করি না। তবে তার অনুসরণ এ কারণে করে থাকি যে, তিনি কুরআন ও হাদীস খুব ভাল করে বুঝেছিলেন। হাদীস বুঝা ও যাচাই বাছাই করা অনেক যোগ্যতার কাজ। তিনি কুরআন ও হাদীস খুব বুঝতেন। সেই সাথে আমাদের খুব সহজ পদ্ধতিতে বুঝিয়েছেন। এ কারণেই এক হাজার বছরের অতিরিক্ত সময়কাল ধরে মানুষেরা তার অনুসরণ করে আসছে। ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ তা করতে থাকবে। এবার আপনি আন্দাজ করে নিন যে, এই এক হাজার বছরের মাঝে কত বড় বড় মুহাদ্দিস, যোগ্য আলেম, আবেদ, আল্লাহওয়ালা , মুজতাহিদ, ইমাম, ফক্বীহ অতিক্রান্ত হয়েছেন। যারা সবাই তার মুকাল্লিদ ছিলেন এবং তার অনুসরণ করেছেন। ইমাম সাহেব রহঃ তাবেয়ী ছিলেন। ইমাম সাহেব রহঃ এর মুবারক চোখ সাহাবীদের প্রতক্ষ্য করেছেন।
ভেবে দেখুন! ইমাম সাহেব রহঃ এর মর্যাদা কত বড়? কালের বড় বড় ইমাম তার ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে যদি কেউ নিজের মতকে তার উপর প্রধান্য দেয়, এবং তাকে মন্দ বলে বোকার খাতায় নিজের নাম লিখাতে চায় তাহলে এটি তার আত্মপ্রবঞ্চনা আর মুর্খতা বৈ কিছু নয়। ”{খুলাসায়ে তালাশে হক-১৫}
উক্ত চিঠির জবাবে ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা লিখেনঃ “আমি এসব ফযীলতকে স্বীকার করি। যা আপনি ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন। আমি কোন বিষয়ে তার সম পর্যায়েরতো দূরে থাক তার পায়ের ধুলিকণা সমও নই। {খুলাসায়ে তালাশে হক-২২}
মাসঈদী ফিরক্বার লোকেরা একটু ভেবে দেখুন! যে ব্যক্তি ইমাম আজম আবু হানীফা রহঃ এর তাকলীদ ও পথপ্রদর্শনে কুরআন ও সুন্নতের উপর আমল করে তাদেরতো আপনারা মুশরিক এবং গায়রে মুসলিম বলে থাকেন। অথচ আপনাদের ইমাম যে ইমাম আজম রহঃ এর পায়ের ধুলি কণা সমতুল্যও নয় তার তাকলীদ করাকে ফরজ মনে করেন!
এ তিনটি বিষয়ের কোনটি কুরআন ও হাদীসে বিদ্যমান নয়। এ কারণে আমরা উম্মতীদের প্রতি মুখাপেক্ষী।
মুহাদ্দিসীনে কেরাম শুধু প্রথম বিষয়টির উপর নিজেদের রায় দিয়েছেন।
তবে হ্যাঁ, ফুক্বাহায়ে কেরাম এবং মুজতাহিদীনগণ তিনটি বিষয়েরই পরিপূর্ণ তাহকীক করে তার নির্যাস থেকে আমলযোগ্য মাসআলাকে উপস্থাপন করে দিয়েছেন্ হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এর প্রসিদ্ধ হাদীস অনুপাতে যে বিষয় কিতাবুল্লাহ ও সুন্নতে না পাওয়া যায় তাতে ইজতিহাদের ভিত্তিতে ফায়সালা হবে। এ কারণেই আমরা উক্ত তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর তাকলীদ করে থাকি। কিন্তু মাসঊদী ফিরক্বারা মাসউদের মত অযোগ্য ব্যক্তির কথার তাকলীদ করে থাকে। তাদের দু’জনের মাঝে কি বিস্তর ফারাক।
এ ব্যাপারে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার নিজের স্বীকারোক্তিটি একটু পড়ে নিন-
এক ব্যক্তি তাকে চিঠি লিখলঃ “আমি আল্লাহর রহমাতে হানাফী। কুরআনে কারীম, রাসূল সাঃ এর সুন্নত এবং সাহাবায়ে কেরামের মত ও পথের পর ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর অনুসরণ করে থাকি। আর নিজেকে হানাফী বলে থাকি। আল্লাহর রহমাতে আমি সন্তুষ্ট। তবে হানাফী হওয়াকে আমি ঈমানের অংশ মনে করি না। তবে তার অনুসরণ এ কারণে করে থাকি যে, তিনি কুরআন ও হাদীস খুব ভাল করে বুঝেছিলেন। হাদীস বুঝা ও যাচাই বাছাই করা অনেক যোগ্যতার কাজ। তিনি কুরআন ও হাদীস খুব বুঝতেন। সেই সাথে আমাদের খুব সহজ পদ্ধতিতে বুঝিয়েছেন। এ কারণেই এক হাজার বছরের অতিরিক্ত সময়কাল ধরে মানুষেরা তার অনুসরণ করে আসছে। ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ তা করতে থাকবে। এবার আপনি আন্দাজ করে নিন যে, এই এক হাজার বছরের মাঝে কত বড় বড় মুহাদ্দিস, যোগ্য আলেম, আবেদ, আল্লাহওয়ালা , মুজতাহিদ, ইমাম, ফক্বীহ অতিক্রান্ত হয়েছেন। যারা সবাই তার মুকাল্লিদ ছিলেন এবং তার অনুসরণ করেছেন। ইমাম সাহেব রহঃ তাবেয়ী ছিলেন। ইমাম সাহেব রহঃ এর মুবারক চোখ সাহাবীদের প্রতক্ষ্য করেছেন।
ভেবে দেখুন! ইমাম সাহেব রহঃ এর মর্যাদা কত বড়? কালের বড় বড় ইমাম তার ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে যদি কেউ নিজের মতকে তার উপর প্রধান্য দেয়, এবং তাকে মন্দ বলে বোকার খাতায় নিজের নাম লিখাতে চায় তাহলে এটি তার আত্মপ্রবঞ্চনা আর মুর্খতা বৈ কিছু নয়। ”{খুলাসায়ে তালাশে হক-১৫}
উক্ত চিঠির জবাবে ফিরক্বা প্রতিষ্ঠাতা লিখেনঃ “আমি এসব ফযীলতকে স্বীকার করি। যা আপনি ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন। আমি কোন বিষয়ে তার সম পর্যায়েরতো দূরে থাক তার পায়ের ধুলিকণা সমও নই। {খুলাসায়ে তালাশে হক-২২}
মাসঈদী ফিরক্বার লোকেরা একটু ভেবে দেখুন! যে ব্যক্তি ইমাম আজম আবু হানীফা রহঃ এর তাকলীদ ও পথপ্রদর্শনে কুরআন ও সুন্নতের উপর আমল করে তাদেরতো আপনারা মুশরিক এবং গায়রে মুসলিম বলে থাকেন। অথচ আপনাদের ইমাম যে ইমাম আজম রহঃ এর পায়ের ধুলি কণা সমতুল্যও নয় তার তাকলীদ করাকে ফরজ মনে করেন!
কথিত আহলে হাদীসদের নতুন ফিরক্বা জামাআতুল মুসলিমীনের নতুন শরীয়ত!
লেখক- মুনাজিরে ইসলাম মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর ওকাড়বী রহঃ
অনুবাদঃ লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য কথা যে, ইসলাম একটি বৈশ্বিক বা সার্বজনীন ধর্ম। আর এ দ্বীনের প্রচার প্রসার পূর্ণ দুনিয়াতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের মাধ্যমে বিশেষ করে হানাফীদের মাধ্যমে হয়েছে। রাসূল সাঃ সিন্ধ ও হিন্দের বিজয়ের ভবিষ্যতবানী করেছিলেন। {নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ}
হিন্দকে হানাফীগণ বিজয় করেছে। লাখো কাফের তাদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তারা সবাই সুন্নী হানাফী হয়েছেন। প্রায় এক হাজার বছর যাবত এ উপমহাদেশে ইসলামী রাজত্ব ছিল। আর কুরআন ও হাদীসের উপর ভিত্তিশীল ফিক্বহে হানাফী ছিল এ দেশের বিধি-বিধান। নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান গায়রে মুকাল্লিদ [মৃত্যু ১৩০৭ হিজরী] এ দ্রুব সত্যকে স্বীকার করে লিখেনঃ “ যখন থেকে এখানে ইসলাম আগমণ করেছে সে সময় থেকে হিন্দুস্তানের মুসলমানদের অবস্থার সারমর্ম হল, যেহেতু অধিকাংশ মানুষই বাদশাহের মাযহাবকেই পছন্দ করে থাকে, তাই তারা সে সময় থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত হানাফী মাযহাবের উপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এখনো আছে। আর এ মাযহাবের আলেম, ফাযেলগণই কাজী, মুফতী ও হাকিমের দায়িত্ব পালন করে থাকে। {তরজুমানে ওহাবিয়া-১০}
হিন্দকে হানাফীগণ বিজয় করেছে। লাখো কাফের তাদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তারা সবাই সুন্নী হানাফী হয়েছেন। প্রায় এক হাজার বছর যাবত এ উপমহাদেশে ইসলামী রাজত্ব ছিল। আর কুরআন ও হাদীসের উপর ভিত্তিশীল ফিক্বহে হানাফী ছিল এ দেশের বিধি-বিধান। নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান গায়রে মুকাল্লিদ [মৃত্যু ১৩০৭ হিজরী] এ দ্রুব সত্যকে স্বীকার করে লিখেনঃ “ যখন থেকে এখানে ইসলাম আগমণ করেছে সে সময় থেকে হিন্দুস্তানের মুসলমানদের অবস্থার সারমর্ম হল, যেহেতু অধিকাংশ মানুষই বাদশাহের মাযহাবকেই পছন্দ করে থাকে, তাই তারা সে সময় থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত হানাফী মাযহাবের উপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এখনো আছে। আর এ মাযহাবের আলেম, ফাযেলগণই কাজী, মুফতী ও হাকিমের দায়িত্ব পালন করে থাকে। {তরজুমানে ওহাবিয়া-১০}
ইংরেজ শাসন
তারপর এখানে ইংরেজদের শাসন প্রতিষ্ঠা পায়। আর তারা এখানে মাযহাবী স্বাধীনতা তথা গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাতের ভিত্তি স্থাপন করে। মাওলানা মুহাম্মদ হুসাইন বাটালবী গায়রে মুকাল্লিদ [মৃত্যু ১৩৩৮ হিজরী] নিজেই বলেন যে, “হে হযরতগণ! মাযহাব বিষয়ে এ স্বাধীনতা আর নিজস্ব মত আর নিজস্ব ইজতিহাদের প্রচলন ইউরোপ থেকে শুরু হয়। আর হিন্দুস্তানের প্রতিটি শহর, প্রতিটি বস্তি, প্রতিটি অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। এটাই অধিকাংশ হিন্দুদের হিন্দু, আর মুসলমানদের মুসলমান থাকতে দেয়নি। {ইশাআতুস সুন্নাহ-২৫৫}
এ গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য ভুপালের বিভাগীয় নেতৃত্ব তাদের উপর ন্যস্ত করা হয়। এ কারণেই নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান ভুপালী গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব লিখেন যে, “ভূপালের মাঝে সর্বদা মাযহাবী স্বাধীনতা [গায়রে মুকাল্লিদিয়্যত] প্রতিষ্ঠিত থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। যার বিশেষ ইচ্ছে ইন্ডিয়ার শাসকদের ছিল। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৩}
তারপর তিনি বলেনঃ আমাদের নতুন মাযহাব সমূহ [হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ইত্যাদি] থেকে স্বাধীন মানসিকতার মাযহাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল মূলত ইংরেজদের কানুন মানা। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৫}
এ লোকেরা [গায়রে মুকাল্লিদ] দ্বীনের ব্যাপারে ঐ স্বাধীনতা পায়, যার ঘোষণা ইংরেজ সরকার জারি করেছে। বিশেষ করে দিল্লি থেকে। যাদের অধিকাংশই হল দরবারের সভাসদ। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৩২)
এসব দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাত ইউরোপ থেকে এসেছে। আর ইংরেজদের পরিচালিত একটি আন্দোলন। নতুবা আল্লাহ তাআলার পাক কালাম আর রাসূল সাঃ এর ইরশাদের মাঝে কোথাও একথা পাওয়া যায় না যে, ইজতিহাদী মাসায়েলে গায়রে মুজতাহিদকে মুজতাহিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা, বা খারাপ মন্তব্য করাকে হাদীসের উপর আমল বলা হয়।
এ গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য ভুপালের বিভাগীয় নেতৃত্ব তাদের উপর ন্যস্ত করা হয়। এ কারণেই নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান ভুপালী গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব লিখেন যে, “ভূপালের মাঝে সর্বদা মাযহাবী স্বাধীনতা [গায়রে মুকাল্লিদিয়্যত] প্রতিষ্ঠিত থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। যার বিশেষ ইচ্ছে ইন্ডিয়ার শাসকদের ছিল। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৩}
তারপর তিনি বলেনঃ আমাদের নতুন মাযহাব সমূহ [হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ইত্যাদি] থেকে স্বাধীন মানসিকতার মাযহাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল মূলত ইংরেজদের কানুন মানা। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৫}
এ লোকেরা [গায়রে মুকাল্লিদ] দ্বীনের ব্যাপারে ঐ স্বাধীনতা পায়, যার ঘোষণা ইংরেজ সরকার জারি করেছে। বিশেষ করে দিল্লি থেকে। যাদের অধিকাংশই হল দরবারের সভাসদ। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৩২)
এসব দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাত ইউরোপ থেকে এসেছে। আর ইংরেজদের পরিচালিত একটি আন্দোলন। নতুবা আল্লাহ তাআলার পাক কালাম আর রাসূল সাঃ এর ইরশাদের মাঝে কোথাও একথা পাওয়া যায় না যে, ইজতিহাদী মাসায়েলে গায়রে মুজতাহিদকে মুজতাহিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা, বা খারাপ মন্তব্য করাকে হাদীসের উপর আমল বলা হয়।
দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল
এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, হানাফীদের মেহনতে কোটি কাফেররা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাত আন্দোলনের প্রথম ফল কি পাওয়া গেল?
মাওলানা মুহাম্মদ হাসান বাটালবী লিখেছেনঃ “পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতা দ্বারা আমরা একথা জানতে পারি যে, যারা ইলমহীনতার কারণে মুজতাহিদে মুতলাক এবং মুতলাকানভাবে তাকলীদকে অস্বিকারকারী হয়ে যায়, তারা অবশেষে ইসলামকেই সালাম বলে বসে। তথা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। আর তাদের মাঝে কেউ কেউ হয়ে যায় খৃষ্টান। আর কেউ কেউ ধর্মহীন। যারা কোন দ্বীন বা মাযহাবের অনুসারীই থাকে না। আর শরীয়তের বিধান লঙ্ঘণ করাতো এ স্বাধীনতার প্রথম ফল। কাফের ও মুরতাদ হওয়ার অনেক কারণই দুনিয়াতে বিদ্যমান। তবে দ্বীনদারদেরকে বেদ্বীন হওয়ার জন্য ইলমহীনতার সাথে তাকলীদ ছেড়ে দেয়া বড় একটি কারণ। {ইশাআতুস সুন্নাহ-২/৫৪}
তাহলে অবস্থা কি দাঁড়াল? আগে কফেররা মুসলমান হতে আসতো, আর এ গায়রে মুকাল্লিদ মতবাদের প্রভাবে মুসলমান কাফের হতে ছুটে চলছে।
দ্বিতীয় ফল কী দাঁড়াল? জনাব মাওলানা আব্দুল আহাদ জানপুরী গজনবী [মৃত্যু ১৩৪৭ হিজরী] গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব লিখেনঃ নীচরী ফিরক্বা [যারা মুজেজা ও কারামাত অস্বিকার করে থাকে] কাদিয়ানী ফিরক্বা এবং চাকরালয়ী ফিরক্বা [যারা সুন্নতের অস্বিকারকারী] এ আহলে হাদীস থেকেই বের হয়েছে। {কিতাবুস তাওহীদ ওয়াস সুন্নাহ-১০২}
আর তৃতীয় ফলাফল এটা বের হয় যে, এ ফিরক্বাটি অল্প কয়েক বছরের মাঝে ছোট ছোট কয়েকটি ফিরক্বায় বিভক্ত হয়ে যায়। জনাব মাওলানা আব্দুল ওহাব সাহেব জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস সম্পর্কে বিস্তারিত এই বলেন যে,
মাওলানা মুহাম্মদ হাসান বাটালবী লিখেছেনঃ “পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতা দ্বারা আমরা একথা জানতে পারি যে, যারা ইলমহীনতার কারণে মুজতাহিদে মুতলাক এবং মুতলাকানভাবে তাকলীদকে অস্বিকারকারী হয়ে যায়, তারা অবশেষে ইসলামকেই সালাম বলে বসে। তথা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। আর তাদের মাঝে কেউ কেউ হয়ে যায় খৃষ্টান। আর কেউ কেউ ধর্মহীন। যারা কোন দ্বীন বা মাযহাবের অনুসারীই থাকে না। আর শরীয়তের বিধান লঙ্ঘণ করাতো এ স্বাধীনতার প্রথম ফল। কাফের ও মুরতাদ হওয়ার অনেক কারণই দুনিয়াতে বিদ্যমান। তবে দ্বীনদারদেরকে বেদ্বীন হওয়ার জন্য ইলমহীনতার সাথে তাকলীদ ছেড়ে দেয়া বড় একটি কারণ। {ইশাআতুস সুন্নাহ-২/৫৪}
তাহলে অবস্থা কি দাঁড়াল? আগে কফেররা মুসলমান হতে আসতো, আর এ গায়রে মুকাল্লিদ মতবাদের প্রভাবে মুসলমান কাফের হতে ছুটে চলছে।
দ্বিতীয় ফল কী দাঁড়াল? জনাব মাওলানা আব্দুল আহাদ জানপুরী গজনবী [মৃত্যু ১৩৪৭ হিজরী] গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব লিখেনঃ নীচরী ফিরক্বা [যারা মুজেজা ও কারামাত অস্বিকার করে থাকে] কাদিয়ানী ফিরক্বা এবং চাকরালয়ী ফিরক্বা [যারা সুন্নতের অস্বিকারকারী] এ আহলে হাদীস থেকেই বের হয়েছে। {কিতাবুস তাওহীদ ওয়াস সুন্নাহ-১০২}
আর তৃতীয় ফলাফল এটা বের হয় যে, এ ফিরক্বাটি অল্প কয়েক বছরের মাঝে ছোট ছোট কয়েকটি ফিরক্বায় বিভক্ত হয়ে যায়। জনাব মাওলানা আব্দুল ওহাব সাহেব জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস সম্পর্কে বিস্তারিত এই বলেন যে,
১- জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা-১৩১৩ হিজরী।
২- কানফারেন্স আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা ১৩২৮ হিজরী।
৩- ফিরক্বায়ে সানায়িয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৩৮ হিজরী।
৪- আমীরে শরীয়ত সূবা বাহার প্রতিষ্ঠা ১৩৩৯ হিজরী।
৫- ফিরক্বা হানাফিয়্যাহ আতায়িয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৩৯ হিজরী।
৬- ফিরক্বায়ে শরীফিয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৪৯ হিজরী।
৭- ফিরক্বায়ে গজনবিয়্যহ প্রতিষ্ঠা ১৩৫৩ হিজরী।
৮- জমীয়তে আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা ১৩৭০ হিজরী।
৯- মুহিউদ্দীন লাখয়ী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠা ১৩৭৮ হিজরী। {খুতবায়ে আমারাত-২৬}
২- কানফারেন্স আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা ১৩২৮ হিজরী।
৩- ফিরক্বায়ে সানায়িয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৩৮ হিজরী।
৪- আমীরে শরীয়ত সূবা বাহার প্রতিষ্ঠা ১৩৩৯ হিজরী।
৫- ফিরক্বা হানাফিয়্যাহ আতায়িয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৩৯ হিজরী।
৬- ফিরক্বায়ে শরীফিয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৪৯ হিজরী।
৭- ফিরক্বায়ে গজনবিয়্যহ প্রতিষ্ঠা ১৩৫৩ হিজরী।
৮- জমীয়তে আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা ১৩৭০ হিজরী।
৯- মুহিউদ্দীন লাখয়ী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠা ১৩৭৮ হিজরী। {খুতবায়ে আমারাত-২৬}
জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস
এ সূচির শুরুতেই জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের নাম রয়েছে। এ ফিরক্বা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল?
মাওলানা আতাউল্লাহ হানীফ বুঝানপুরীর ছাত্র প্রফেসর মুহাম্মদ মুবারক সাহেব লিখেনঃ জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের ভিত্তি কেবলমাত্র মুহাদ্দিসীনদের বিরোধীতার উপর রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য শুধু তাই নয়, বরং তাহরীকে মুজাহিদীন তথা সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ রহঃ এর আন্দোলনের বিরোধিতা করে ইংরেজদের খুশি করাকেও উদ্দেশ্য বানিয়েছিল। {উলামায়ে আহনাফ আওর তাহরীকে মুজাহিদীন-৪৮}
এ ফিরক্বাটির উদ্দেশ্য আশা করি আপনাদের সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে।
মাওলানা আতাউল্লাহ হানীফ বুঝানপুরীর ছাত্র প্রফেসর মুহাম্মদ মুবারক সাহেব লিখেনঃ জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের ভিত্তি কেবলমাত্র মুহাদ্দিসীনদের বিরোধীতার উপর রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য শুধু তাই নয়, বরং তাহরীকে মুজাহিদীন তথা সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ রহঃ এর আন্দোলনের বিরোধিতা করে ইংরেজদের খুশি করাকেও উদ্দেশ্য বানিয়েছিল। {উলামায়ে আহনাফ আওর তাহরীকে মুজাহিদীন-৪৮}
এ ফিরক্বাটির উদ্দেশ্য আশা করি আপনাদের সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে।
মাসউদী ফিরক্বা নামধারী জামাআতুল মুসলিমীন
এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা মাসউস সর্বপ্রথম গুরাবায়ে আহলে হাদীসের সদস্য ছিল। তখন নিজেকে আহলে হাদীস বলতো। সে কোন আলেম ছিল না। উর্দু অনুবাদ পড়ে পড়ে “অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী জুতারে কয় আলমারী” টাইপ হয়ে উঠে।
আহলে হাদীস থাকা অবস্থায় সে একটি লিখিত বাহাস “তালাশে হক” নামে জামাআতে আহলে হাদীস করাচি থেকে প্রকাশ করে। দ্বিতীয় রেসালা “আত তাহকীক ফী জাওয়াবিত তাকলীদ” জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের পক্ষ থেকে প্রকাশ করে। এসব কিতাবের মাঝে মুজতাহিদীনদের শরীয়ত বিদ্রোহী আর তাদের মুকাল্লিদদের মুশরিক লিখেছে। সেই সাথে উক্ত গ্রন্থকে পূর্ববর্তীদের সাথে খারাপ ধারণা, এবং ইসলামের বড় আলেমদের ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করার ভাগাড় বানায়।
আহলে হাদীস ফিরক্বার নিকট এমন ব্যক্তির খুবই কদর হয়ে থাকে। সে মুর্খ হওয়া সত্বেও তাই দলের মাঝে সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। সে দেখলো যে, জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের মাঝে প্রধান বা আমীর হওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। তার মনেও আমীর হওয়ার খাহেশ উঁকি ঝুঁকি দিতে লাগলো। কিন্তু তার এ অথর্বতা নিয়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস দলের আমীর হওয়া কিছুতেই সম্ভব ছিল না। এ কারণে সে ১৩৮৫ হিজরীতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের একটি অনুগামী দল বানায়। যার নাম দেয় “জামাআতুল মুসলিমীন”। দশ বছর পর্যন্ত এ নতুন ফিরক্বাটি গুরাবায়ে আহলে হাদীসের দেখাশোনায় বাকি থাকে। কিন্তু দশ বছর পর ১৩৯৫ হিজরীতে এসে এটি একটি নতুন স্বতন্ত্র ফিরক্বা হওয়ার ঘোষণা দেয়।
আহলে হাদীস থাকা অবস্থায় সে একটি লিখিত বাহাস “তালাশে হক” নামে জামাআতে আহলে হাদীস করাচি থেকে প্রকাশ করে। দ্বিতীয় রেসালা “আত তাহকীক ফী জাওয়াবিত তাকলীদ” জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের পক্ষ থেকে প্রকাশ করে। এসব কিতাবের মাঝে মুজতাহিদীনদের শরীয়ত বিদ্রোহী আর তাদের মুকাল্লিদদের মুশরিক লিখেছে। সেই সাথে উক্ত গ্রন্থকে পূর্ববর্তীদের সাথে খারাপ ধারণা, এবং ইসলামের বড় আলেমদের ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করার ভাগাড় বানায়।
আহলে হাদীস ফিরক্বার নিকট এমন ব্যক্তির খুবই কদর হয়ে থাকে। সে মুর্খ হওয়া সত্বেও তাই দলের মাঝে সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। সে দেখলো যে, জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের মাঝে প্রধান বা আমীর হওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। তার মনেও আমীর হওয়ার খাহেশ উঁকি ঝুঁকি দিতে লাগলো। কিন্তু তার এ অথর্বতা নিয়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস দলের আমীর হওয়া কিছুতেই সম্ভব ছিল না। এ কারণে সে ১৩৮৫ হিজরীতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের একটি অনুগামী দল বানায়। যার নাম দেয় “জামাআতুল মুসলিমীন”। দশ বছর পর্যন্ত এ নতুন ফিরক্বাটি গুরাবায়ে আহলে হাদীসের দেখাশোনায় বাকি থাকে। কিন্তু দশ বছর পর ১৩৯৫ হিজরীতে এসে এটি একটি নতুন স্বতন্ত্র ফিরক্বা হওয়ার ঘোষণা দেয়।
মুসলিম শব্দের নতুন অর্থ
মুসলমানদের মাঝে যে অর্থে “মুসলিম” শব্দ ব্যবহার করা হয়। সেই সাথে কুরআন ও হাদীসে যে অর্থে মুসলিম শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, সে অর্থ ছেড়ে দিয়ে এ ফিরক্বাটির প্রতিষ্ঠাতা মুসলিম শব্দের একটি নুতন অর্থ আবিস্কার করে। সে লিখেঃ “মোটকথা হল, মুসলমান তথা কোন ইমামের তাকলীদ পরিত্যাগকারীরা সর্বদা থাকে। অর্থাৎ “মুসলিমীন” অর্থ হল “গায়রে মুকাল্লিদীন”।
এ মুনফী ফিরক্বার পরিভাষা অনুপাতে সমস্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী, মালেকী, হাম্বলীও শাফেয়ীগণ মুসলমানের কাতার থেকে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান আহলে হাদীসরাতো গায়রে মুকাল্লিদ। তারাতো মুসলমান বাকি থাকা উচিত। কিন্তু আফসোস! এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার তাদেরও মুসলমান গণ্য করে না। অথচ এরা গায়রে মুকাল্লিদ। এ কারণে আহলে হাদীস দলটিকে অমুসলিম বলে থাকে, যেহেতু তারা একটি পুস্তিকা লিখেছে, যার নাম হল “ইতাআতে আমীর”। উক্ত পুস্তিকাতে আমীরের অনুসরণ করাকে ফরজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর তাদের নিকট আমীর ও ইমাম সমার্থবোধক। আমীর সে নিজেই। আহলে হাদীসরা যদিও গায়রে মুকাল্লিদ। তবু তারা মাসউদ আহমদ সাহেবকে অনুসরণ করা ফরজ মনে করে না। এ কারণে তারা অমুসলিম। এবার মুসলিমের অর্থ স্পষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান রাখে, কোন ইমামের তাকলীদও না করে, কিন্তু মাসউদের ঈমান না রাখে, তার আনুগত্বকে ফরজ মনে না করে, তাহলে সে ব্যক্তি কিছুতেই মুসলিম নয়।
এ অর্থে মুসলিম শব্দ না কুরআনে আছে, না হাদীসে এসেছে, না ইতিহাসের কিতাবে আছে। তাহলে কী দাঁড়াল? জামাআতুল মুসলিমীন এর অর্থ হল, চার ইমাম এর তাকলীদ ছেড়ে দিয়ে মাসউদ আহমদ সাহেবের আনুগত্ব ফরজ যারা মানে, তারা হল মাসউদী ফিরক্বা।
এর দ্বারা একথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তারা কুরআন ও হাদীসের ব্যাপারে মিথ্যাচার করে থাকে যে, তাদের ফিরক্বার নাম নাকি কুরআনে আছে। যেমনিভাবে কুরআনে বিদ্যমান শব্দ “রাবওয়াহ” দ্বারা কাদিয়ানীদের “রাবওয়াহ” কিছুতেই ্উদ্দেশ্য নয়। কুরআনে কারীমের বিদ্যমান শব্দ “হিযবুল্লাহ” দ্বারা মাসউদ আহমদের নিকট মাসউদুদ্দীন উসমানী ফিরক্বা হিযবুল্লাহ উদ্দেশ্য নয়। তাহলে কুরআনে নাজিলের সাড়ে চৌদ্দশত পরে করাচীতে মাসউদ আহমদের বানানো বিদআতি ফিরক্বা কুরআন হাদীসের বিদ্যমান মুসলিম শব্দের মিসদাক কি করে হতে পারে?
এ মুনফী ফিরক্বার পরিভাষা অনুপাতে সমস্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী, মালেকী, হাম্বলীও শাফেয়ীগণ মুসলমানের কাতার থেকে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান আহলে হাদীসরাতো গায়রে মুকাল্লিদ। তারাতো মুসলমান বাকি থাকা উচিত। কিন্তু আফসোস! এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার তাদেরও মুসলমান গণ্য করে না। অথচ এরা গায়রে মুকাল্লিদ। এ কারণে আহলে হাদীস দলটিকে অমুসলিম বলে থাকে, যেহেতু তারা একটি পুস্তিকা লিখেছে, যার নাম হল “ইতাআতে আমীর”। উক্ত পুস্তিকাতে আমীরের অনুসরণ করাকে ফরজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর তাদের নিকট আমীর ও ইমাম সমার্থবোধক। আমীর সে নিজেই। আহলে হাদীসরা যদিও গায়রে মুকাল্লিদ। তবু তারা মাসউদ আহমদ সাহেবকে অনুসরণ করা ফরজ মনে করে না। এ কারণে তারা অমুসলিম। এবার মুসলিমের অর্থ স্পষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান রাখে, কোন ইমামের তাকলীদও না করে, কিন্তু মাসউদের ঈমান না রাখে, তার আনুগত্বকে ফরজ মনে না করে, তাহলে সে ব্যক্তি কিছুতেই মুসলিম নয়।
এ অর্থে মুসলিম শব্দ না কুরআনে আছে, না হাদীসে এসেছে, না ইতিহাসের কিতাবে আছে। তাহলে কী দাঁড়াল? জামাআতুল মুসলিমীন এর অর্থ হল, চার ইমাম এর তাকলীদ ছেড়ে দিয়ে মাসউদ আহমদ সাহেবের আনুগত্ব ফরজ যারা মানে, তারা হল মাসউদী ফিরক্বা।
এর দ্বারা একথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তারা কুরআন ও হাদীসের ব্যাপারে মিথ্যাচার করে থাকে যে, তাদের ফিরক্বার নাম নাকি কুরআনে আছে। যেমনিভাবে কুরআনে বিদ্যমান শব্দ “রাবওয়াহ” দ্বারা কাদিয়ানীদের “রাবওয়াহ” কিছুতেই ্উদ্দেশ্য নয়। কুরআনে কারীমের বিদ্যমান শব্দ “হিযবুল্লাহ” দ্বারা মাসউদ আহমদের নিকট মাসউদুদ্দীন উসমানী ফিরক্বা হিযবুল্লাহ উদ্দেশ্য নয়। তাহলে কুরআনে নাজিলের সাড়ে চৌদ্দশত পরে করাচীতে মাসউদ আহমদের বানানো বিদআতি ফিরক্বা কুরআন হাদীসের বিদ্যমান মুসলিম শব্দের মিসদাক কি করে হতে পারে?
মাসউদী ফিরক্বার দাওয়াত
১
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে হাকীম মানে, কিন্তু মাসউদ সাহেবকে হাকীম ও আমীর না মানে সে মুসলিম হতে পারবে না।
২
যে ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর উপর ঈমান রাখে, কিন্তু মাসউদ আহমদকে আনুগত্ব করা ফরজ ইমাম না মানে, সে মুসলিম নয়।
৩
যে দ্বীনে ইসলাম চৌদ্দশত বছর যাবত চলে আসছে, যে ব্যক্তি এটাকে মানে, কিন্তু মাসউদ আহমদ সাহেব এর লিখিত কিতাবের উপর ঈমান না রাখে, সে মুসলিম নয়।
৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাদের নাম মুসলিম রেখেছেন। যাদের সিলসিলা চৌদ্দশত বছর যাবত চলে আসছে, তাদের মুসলিম মানা যাবে না, কেবল তারাই মুসলিম হবে যাদের ১৩৯৫ হিজরীতে মাসউদ আহমদ সাহেব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিপরীত মুসলিম নাম দিয়েছেন।
৫
আহলে ইসলাম তথা মুসলমানরা একথা বলে থাকে যে, আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে মোহাব্বত রাখা আল্লাহ ও রাসূলের সাথে মোহাব্বতের নিদর্শন। কিন্তু তাদের নিকট মোহাব্বতের ভিত্তি হল মাসউদী ফিরক্বায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার নাম। যে মুসলমান মাসউদী ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত হবে না, তাদের ফিরক্বার লোকেরা না সালাম দেয়, না তাদের সালামের জবাব দেয়।
৬
সমস্ত আহলে ইসলাম আল্লাহ ও রাসূলের পর তাদের আকাবীর তথা বড়দের নিয়ে গর্ব করে থাকে, কিন্তু মাসউদী ফিরক্বার গর্ব হল তাদের মুর্খ ইমামকে নিয়ে। এ কারণেই রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ শেষ জমানায় মুর্খদের নিজেদের দ্বীনী আমীর বানাবে, যে নিজেও গোমরাহ, আর অন্যদেরও গোমরাহ করবে। {বুখারী}
মোটকথা, মাসউদী ফিরক্বার ঈমান শুধুমাত্র মাসউদ আহমদ এর তোষামোদী করার উপর নির্ভরশীল।
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে হাকীম মানে, কিন্তু মাসউদ সাহেবকে হাকীম ও আমীর না মানে সে মুসলিম হতে পারবে না।
২
যে ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর উপর ঈমান রাখে, কিন্তু মাসউদ আহমদকে আনুগত্ব করা ফরজ ইমাম না মানে, সে মুসলিম নয়।
৩
যে দ্বীনে ইসলাম চৌদ্দশত বছর যাবত চলে আসছে, যে ব্যক্তি এটাকে মানে, কিন্তু মাসউদ আহমদ সাহেব এর লিখিত কিতাবের উপর ঈমান না রাখে, সে মুসলিম নয়।
৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাদের নাম মুসলিম রেখেছেন। যাদের সিলসিলা চৌদ্দশত বছর যাবত চলে আসছে, তাদের মুসলিম মানা যাবে না, কেবল তারাই মুসলিম হবে যাদের ১৩৯৫ হিজরীতে মাসউদ আহমদ সাহেব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিপরীত মুসলিম নাম দিয়েছেন।
৫
আহলে ইসলাম তথা মুসলমানরা একথা বলে থাকে যে, আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে মোহাব্বত রাখা আল্লাহ ও রাসূলের সাথে মোহাব্বতের নিদর্শন। কিন্তু তাদের নিকট মোহাব্বতের ভিত্তি হল মাসউদী ফিরক্বায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার নাম। যে মুসলমান মাসউদী ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত হবে না, তাদের ফিরক্বার লোকেরা না সালাম দেয়, না তাদের সালামের জবাব দেয়।
৬
সমস্ত আহলে ইসলাম আল্লাহ ও রাসূলের পর তাদের আকাবীর তথা বড়দের নিয়ে গর্ব করে থাকে, কিন্তু মাসউদী ফিরক্বার গর্ব হল তাদের মুর্খ ইমামকে নিয়ে। এ কারণেই রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ শেষ জমানায় মুর্খদের নিজেদের দ্বীনী আমীর বানাবে, যে নিজেও গোমরাহ, আর অন্যদেরও গোমরাহ করবে। {বুখারী}
মোটকথা, মাসউদী ফিরক্বার ঈমান শুধুমাত্র মাসউদ আহমদ এর তোষামোদী করার উপর নির্ভরশীল।
নতুন দ্বীনের নতুন মাসআলা
১
ইসলামের শুরু লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্বশীল ব্যক্তিকে মুসলিম বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এ নতুন দ্বীনের মাঝে মুসলিম মানে হল, গায়রে মুকাল্লিদ মাসউদ আহমদ সাহেবকে ইমাম হিসেবে আনুগত্ব করা ফরজ মান্যকারীকে বলা হয়।
২
মুসলিম শব্দটি প্রথমে কাফেরদের বিপরীত শব্দ হিসেবে ব্যবহার হতো। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَٰكِن كَانَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ [٣:٦٧
ইবরাহীম ইহুদী ছিলেন না, এবং খৃষ্টান ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন হানীফ তথা সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্মসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরিক ছিলেন না। {সূরা আলে ইমরান-৬৭}
أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ [٣:٨٠
তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরী শেখাবে? {সূরা আলে ইমরান-৮০}
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে-
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে-
رُّبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ [١٥:٢
কোন সময় কাফেররা আকাঙ্খা করবে যে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত। {সূরা হিজর-২}
এ কারণে মুসলমানরা সব সময় মুসলিম শব্দটি কুফরীর বিপরীতে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু নতুন এ মাসউদী দ্বীনের মাঝে মুসলিশ শব্দটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী ইত্যাদির বিপরীত ব্যবহার করা হয়। অথচ কুরআন ্ও হাদীস এবং মুসলমানদের মাঝে মুসলিম শব্দটি তাদের বিপরীতে ব্যবহার করা হয়নি।
এ কারণে মুসলমানরা সব সময় মুসলিম শব্দটি কুফরীর বিপরীতে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু নতুন এ মাসউদী দ্বীনের মাঝে মুসলিশ শব্দটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী ইত্যাদির বিপরীত ব্যবহার করা হয়। অথচ কুরআন ্ও হাদীস এবং মুসলমানদের মাঝে মুসলিম শব্দটি তাদের বিপরীতে ব্যবহার করা হয়নি।
৩
কুরআনে কারীমে যখন আয়াতে কারীমা يوم تبيض وجوه নাজিল হয়, তখন রাসূল সাঃ ইরশাদ করেনঃ যার চেহারা কিয়ামতের দিন আলোকিত হবে, তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ এ আয়াতের তাফসীর করেছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত করে। {আদ দুররুল মানসূর-২/৬৩}
কিন্তু নতুন মাসউদী ফিরক্বার মতানুসারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত যাদের বলা হয়, তারা গায়রে মুসলিম এবং জাহান্নামী।
কিন্তু নতুন মাসউদী ফিরক্বার মতানুসারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত যাদের বলা হয়, তারা গায়রে মুসলিম এবং জাহান্নামী।
৪
ইমাম ইবনে সিরীন [মৃত্যু-১১০ হিজরী] বলেনঃ প্রথম প্রথম হাদীসের সনদ জিজ্ঞেস করা হতো না, যখন ফিতনা হতে লাগল, তখন বলা হতো- রাবীদের নাম বল। যাতে করে আহলে সুন্নতের রাবীদের হাদীস গ্রহণ করা যায়, আর আহলে বেদআতের হাদীসকে পরিত্যাগ করা যায়। {সহীহ মুসলিম-১১}
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, খাইরুল কুরুনের লোকদের আহলে সুন্নত বলা হতো। আর সহীহ হাদীসের রাবীরাও আহলে সুন্নত। আর সুন্নতের বিপরীতমুখী দল হল আহলে বিদআত। মুসলিম নয়। যদি আহলে সুন্নত মুসলিম না হয়, তাহলে সমস্ত সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী গায়রে মুসলিম সাব্যস্ত হয়। তাহলে যেখানে আহলে বিদআতের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, সেখানে অমুসলিমের বর্ণনা কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, খাইরুল কুরুনের লোকদের আহলে সুন্নত বলা হতো। আর সহীহ হাদীসের রাবীরাও আহলে সুন্নত। আর সুন্নতের বিপরীতমুখী দল হল আহলে বিদআত। মুসলিম নয়। যদি আহলে সুন্নত মুসলিম না হয়, তাহলে সমস্ত সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী গায়রে মুসলিম সাব্যস্ত হয়। তাহলে যেখানে আহলে বিদআতের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, সেখানে অমুসলিমের বর্ণনা কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
৫
এ নতুন ফিরক্বা যেমনিভাবে মুসলিম শব্দের অর্থ বিকৃত করেছে, ঠিক তেমনি মাযহাবের অর্থও বিকৃত করেছে। মাযহাবের অর্থ হল রাস্তা। যা গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। আমাদের মাযহাব হল হানাফী। যা আমাদের গন্তব্য মুহাম্মদ সাঃ পর্যন্ত পৌছে দেয়।
আর মাসউদী ফিরক্বার মতে মাযহাব এর সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর ফিরক্বা মানে হল আলাদা হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ যে ব্যক্তি গন্তব্য মুহাম্মদ সাঃ এর রাস্তা থেকে আলাদা হয়ে যায়, সে সুনিশ্চিতভাবে গন্তব্য থেকে হটে যায়।
এ কারণে মাযহাবের মাকসাদ হল গন্তব্য পর্যন্ত পৌছে দেয়া, আর ফিরক্বার মাকসাদ হল, গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছাবেতো দূরে থাক, সে গন্তব্যে পৌঁছার মাযহাব তথা রাস্তা থেকেই হটিয়ে দেয়।
আপনি আগের পৃষ্ঠাগুলোতে এ ইতিহাস পড়েছেন যে, প্রথমে আহলে সুন্নত থেকে বেরিয়ে আহলে হাদীস নামে একটি ফিরক্বা হয়। তারপর সে ফিরক্বা থেকে বেরিয়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস নামে নতুন ফিরক্বা হয়। তারপর সে ফিরক্বাটি থেকে একটি নতুন ফিরক্বা জন্ম নেয়, যার নাম হল মাসউদী ফিরক্বা। এটি শুধু ফিরক্বা নয়, ফিরক্বা থেকে ফিরক্বা, ফিরক্বা থেকে ফিরক্বা।
আর মাসউদী ফিরক্বার মতে মাযহাব এর সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর ফিরক্বা মানে হল আলাদা হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ যে ব্যক্তি গন্তব্য মুহাম্মদ সাঃ এর রাস্তা থেকে আলাদা হয়ে যায়, সে সুনিশ্চিতভাবে গন্তব্য থেকে হটে যায়।
এ কারণে মাযহাবের মাকসাদ হল গন্তব্য পর্যন্ত পৌছে দেয়া, আর ফিরক্বার মাকসাদ হল, গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছাবেতো দূরে থাক, সে গন্তব্যে পৌঁছার মাযহাব তথা রাস্তা থেকেই হটিয়ে দেয়।
আপনি আগের পৃষ্ঠাগুলোতে এ ইতিহাস পড়েছেন যে, প্রথমে আহলে সুন্নত থেকে বেরিয়ে আহলে হাদীস নামে একটি ফিরক্বা হয়। তারপর সে ফিরক্বা থেকে বেরিয়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস নামে নতুন ফিরক্বা হয়। তারপর সে ফিরক্বাটি থেকে একটি নতুন ফিরক্বা জন্ম নেয়, যার নাম হল মাসউদী ফিরক্বা। এটি শুধু ফিরক্বা নয়, ফিরক্বা থেকে ফিরক্বা, ফিরক্বা থেকে ফিরক্বা।
৬
হযরত মুয়াজ রাঃ থেকে প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে যে, যখন রাসূল সাঃ জিজ্ঞেস করলেন যে, যদি মাসআলা কুরআন ও হাদীসের কোথাও না পাও, তাহলে কী করবে? তখন হযরত মুয়াজ রাঃ বলেনঃ اجتهد برائى তথা আমি স্বীয় রায় দিয়ে ইজতিহাদ করবো।
এখানে হযরত মুয়াজ রাঃ ইজতিহাদের নিসবত তার নিজের দিকে করেছেন। আর রাসূল সাঃ একে নিষেধ করেননি। এ কারণে আহলে সুন্নতের অনুসারীরা ইজতিহাদের নিসবত মুজতাহিদের দিকে করে হানাফী, শাফেয়ী ইত্যাদি বলে থাকে। আর এ নিসবত কোন প্রকার প্রতিবাদ ছাড়াই মুসলমানদের মাঝে জারী রয়েছে। সেই সাথে এর সঠিকতার উপর ইজমা তথা উম্মতের ঐক্যমত্ব স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু মাসউদী ফিরক্বার অনুসারীরা ইজমাকে মানতে রাজি নয়। যদিও আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন যে, মুসলমানদের পথ থেকে বিচ্ছুৎ ব্যক্তি জাহান্নামী। আর রাসূল সাঃ জামাআত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু মাসউদী ফিরক্বা [বিদআতি ফিরক্বা] ইজমা থেকে বিচ্ছুৎ ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলার বদলে মুসলিম বলতে লাগল।
আল্লাহ ও রাসূলের সাথে কি রকম স্পষ্ট বিরোধীতা।
এখানে হযরত মুয়াজ রাঃ ইজতিহাদের নিসবত তার নিজের দিকে করেছেন। আর রাসূল সাঃ একে নিষেধ করেননি। এ কারণে আহলে সুন্নতের অনুসারীরা ইজতিহাদের নিসবত মুজতাহিদের দিকে করে হানাফী, শাফেয়ী ইত্যাদি বলে থাকে। আর এ নিসবত কোন প্রকার প্রতিবাদ ছাড়াই মুসলমানদের মাঝে জারী রয়েছে। সেই সাথে এর সঠিকতার উপর ইজমা তথা উম্মতের ঐক্যমত্ব স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু মাসউদী ফিরক্বার অনুসারীরা ইজমাকে মানতে রাজি নয়। যদিও আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন যে, মুসলমানদের পথ থেকে বিচ্ছুৎ ব্যক্তি জাহান্নামী। আর রাসূল সাঃ জামাআত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু মাসউদী ফিরক্বা [বিদআতি ফিরক্বা] ইজমা থেকে বিচ্ছুৎ ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলার বদলে মুসলিম বলতে লাগল।
আল্লাহ ও রাসূলের সাথে কি রকম স্পষ্ট বিরোধীতা।
চার ইমামগণের কারামাত
এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা যদিও মুজতাহিদ রহঃ গণকে শরীয়ত বিদ্রোহী বলে আখ্যা দেয়, কিন্তু এক স্থানে তার কলম থেকে সত্য বেরিয়ে এসেছে। তিনি লিখেনঃ এতে কোন সন্দেহ নেই যে, চার ইমাম যে মূলনীতির উপর মাসায়েলের ভিত্তি রেখেছেন সেসব মূলনীতি সুন্নত। কেননা, তারা মাসায়েলকে কুরআন ও হাদীসের আলোকে সমাধান করেছেন। কুরআন ও হাদীস ছেড়ে দিয়ে অন্য কারো কথাকে দলীল বানাননি। সেই সাথে কুরআন ও হাদীস ছাড়া অন্যদের বক্তব্যকে দলীলও মনে করেননি। তাই তাদের এ পদ্ধতিটি সুনিশ্চিতভাবে সুন্নত ছিল। চারজনই সঠিক পথে ছিলেন। {সারমর্ম তালাশে হক-৮৮}
এ বক্তব্যে চার ইমাম রহঃ এর পদ্ধতিকে সুন্নত সাব্যস্ত করা হয়েছে। চারজনকেই হক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তাদের মাসায়েলকে কুরআন ও হাদীসের মাসায়েল বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তারপরও তাদের কেন শরীয়ত বিদ্রোহী বলা হয়?
যখন তারা কুরআন ও হাদীসের আলোকে মাসআলা বলে থাকেন, তাহলে তাদের সেসব মাসাআলায় তাকলীদ করা কোন আয়াত বা হাদীসের আলোকে শিরক?
আসল কথা হল, যেমনিভাবে ইহুদী উলামারা হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার মসনদ নিজেরাই দখল করে নিয়েছিল। তেমনিভাবে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা নিজের কুপ্রবৃত্তিকে উপসনাযোগ্য বানিয়ে যাকে ইচ্ছে হালাল-হারাম বানিয়ে কুফরীকে ইসলাম আর ইসলামকে কুফরী বানিয়ে দেয়া তার বাম হাতে খেল বানিয়ে ফেলে।
এ বক্তব্যে চার ইমাম রহঃ এর পদ্ধতিকে সুন্নত সাব্যস্ত করা হয়েছে। চারজনকেই হক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তাদের মাসায়েলকে কুরআন ও হাদীসের মাসায়েল বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তারপরও তাদের কেন শরীয়ত বিদ্রোহী বলা হয়?
যখন তারা কুরআন ও হাদীসের আলোকে মাসআলা বলে থাকেন, তাহলে তাদের সেসব মাসাআলায় তাকলীদ করা কোন আয়াত বা হাদীসের আলোকে শিরক?
আসল কথা হল, যেমনিভাবে ইহুদী উলামারা হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার মসনদ নিজেরাই দখল করে নিয়েছিল। তেমনিভাবে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা নিজের কুপ্রবৃত্তিকে উপসনাযোগ্য বানিয়ে যাকে ইচ্ছে হালাল-হারাম বানিয়ে কুফরীকে ইসলাম আর ইসলামকে কুফরী বানিয়ে দেয়া তার বাম হাতে খেল বানিয়ে ফেলে।
শরীয়ত বিকৃতি
কুরআনে কারীম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বশেষ গ্রন্থ। যা ভিন্ন ভিন্ন সাত কিরাতে উম্মতকে দেয়া হয়। কারীগণ এ কুরআনকে প্রসারকারী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুরআনের পরিবর্তে নতুন কুরআন আবিস্কারকারী নয়।
এখন যদি কোন মুর্খ এসব কারীদের ক্রুআন প্রণেতা সাব্যস্ত করে, তাহলে এটি তার মুর্খতার চূড়ান্ত চিত্র বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তাআলার কুরআন, কুরআন মাজীদ, মাসহাফে উসমানী তথা উসমান রাঃ এর সংকলিত কুরআন আর কারী আসেম কুফী রহঃ এর কিরাত এ এসব কিছুই একই কিতাবের বিভিন্ন নাম। আলাদা কোন বস্তু নয়। প্রকাশভঙ্গি একাধিক, বস্তু একই।
এমনিভাবে সিহাহ সিত্তা সংকলকগণ হাদীস একত্র করেছেন। এসব হাদীসের ব্যাপারে একথা বলা যে, এসব রাসূল সাঃ এর হাদীস। একথা বলা যেমন ঠিক আছে, সেই সাথে একথা বলাও সহীহ যে, এসব বুখারীর হাদীস, বা তিরমিজীর হাদীস বা আবু দাউদের হাদীস। কেননা, আহলে ইসলামের নিকট মুহাদ্দিসীনে কেরাম হাদীসের প্রণেতা নয়, বরং হাদীস প্রচার ও প্রসারকারী। এমনিভাবে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা চার ইমামগণের মাসায়েলকে কুরআনও হাদীস থেকে গৃহিত স্বীকার করেছেন। তাই কুরআন ও সুন্নাহের মাসায়েলকে মুজতাহিদ ইমামগণের দিকে নিসবত করে এসবকে ফিক্বহে হানাফী বলা ঠিক তেমন, যেমন রাসূল সাঃ এর হাদীসকে নাসায়ীর হাদীস বলা।
বক্তব্য বানানো, আর বক্তব্য প্রচার করার মাঝে আসমান ও জমীনের পার্থক্য। তাই মুজতাহিদ ইমামগণকে শরীয়ত বিকৃতিকারী বলা এমনি মুর্খতা, যেমন মুহাদ্দিসীনে কেরামকে হাদীসের প্রণেতা বলা, বা সাত কারীদের কুরআন প্রণেতা বলা মুর্খতা।
যে ফেরক্বার প্রতিষ্ঠাতার মুর্খতার এ অবস্থা! যে বক্তব্য প্রচার করা আর প্রণয়ন করার পার্থক্যটুকু বুঝে না, তার অনুসারীদের মুর্খতা কিরূপ হবে তা সহজেই অনুমেয়।
এখন যদি কোন মুর্খ এসব কারীদের ক্রুআন প্রণেতা সাব্যস্ত করে, তাহলে এটি তার মুর্খতার চূড়ান্ত চিত্র বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তাআলার কুরআন, কুরআন মাজীদ, মাসহাফে উসমানী তথা উসমান রাঃ এর সংকলিত কুরআন আর কারী আসেম কুফী রহঃ এর কিরাত এ এসব কিছুই একই কিতাবের বিভিন্ন নাম। আলাদা কোন বস্তু নয়। প্রকাশভঙ্গি একাধিক, বস্তু একই।
এমনিভাবে সিহাহ সিত্তা সংকলকগণ হাদীস একত্র করেছেন। এসব হাদীসের ব্যাপারে একথা বলা যে, এসব রাসূল সাঃ এর হাদীস। একথা বলা যেমন ঠিক আছে, সেই সাথে একথা বলাও সহীহ যে, এসব বুখারীর হাদীস, বা তিরমিজীর হাদীস বা আবু দাউদের হাদীস। কেননা, আহলে ইসলামের নিকট মুহাদ্দিসীনে কেরাম হাদীসের প্রণেতা নয়, বরং হাদীস প্রচার ও প্রসারকারী। এমনিভাবে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা চার ইমামগণের মাসায়েলকে কুরআনও হাদীস থেকে গৃহিত স্বীকার করেছেন। তাই কুরআন ও সুন্নাহের মাসায়েলকে মুজতাহিদ ইমামগণের দিকে নিসবত করে এসবকে ফিক্বহে হানাফী বলা ঠিক তেমন, যেমন রাসূল সাঃ এর হাদীসকে নাসায়ীর হাদীস বলা।
বক্তব্য বানানো, আর বক্তব্য প্রচার করার মাঝে আসমান ও জমীনের পার্থক্য। তাই মুজতাহিদ ইমামগণকে শরীয়ত বিকৃতিকারী বলা এমনি মুর্খতা, যেমন মুহাদ্দিসীনে কেরামকে হাদীসের প্রণেতা বলা, বা সাত কারীদের কুরআন প্রণেতা বলা মুর্খতা।
যে ফেরক্বার প্রতিষ্ঠাতার মুর্খতার এ অবস্থা! যে বক্তব্য প্রচার করা আর প্রণয়ন করার পার্থক্যটুকু বুঝে না, তার অনুসারীদের মুর্খতা কিরূপ হবে তা সহজেই অনুমেয়।
নিসবতী নাম
নাম পরিচয় আর পার্থক্য বুঝাতে হয়ে থাকে। নিসবত যত বড় হবে পরিচিতি তত কম হবে, আর নিসবত যত ছোট হবে, পরিচিতি তত বেশি স্পষ্ট হয়।
আপনি হজ্বে গেলেন। সেখানে আপনাকে একজন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কোথায় থাকেন? আপনি জবাবে বললেন! আমি বাংলাদেশী! প্রশ্নকর্তা ব্যক্তি আপনার পরিচিতি বুঝে যাবে। হজ্ব থেকে ফিরার সময়, ঢাকায় আপনাকে একজন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কোথায় থাকেন? আপনি জবাবে বললেনঃ আমি বাংলাদেশী। তাহলে আপনার উত্তর শোনে প্রশ্নকর্তা হাসবে। কারণ, এখানকার সবাই বাংলাদেশী। এখানে যদি আপনি বলেন, আপনি গাজীপুরের অধিবাসী। তাহলে আপনার পরিচিতি হয়ে যায়।
এখন যদি কোন মুর্খ একথা বলে যে, লোকটি নিজের বাংলাদেশী পরিচয় রেখে নিজেকে গাজীপুরের পরিচয় দিয়েছে। তাই লোকটি আর বাংলাদেশী নয়।
তাহলে আপনি কী বলবেন? নিশ্চয় বলবেন যে, এ মুর্খ লোকটি একথাও বুঝেনি যে, গাজীপুর বাংলাদেশেরই অন্তর্ভূক্ত। গাজীপুরী বলার দ্বারা বাংলাদেশী হওয়াকে অস্বিকার করা নয়। বরং বাংলাদেশী হওয়াকে আরো শক্তিশালী করে দিচ্ছে। এবার আপনি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গেলেন। সেখানে যাওয়ার পর আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করল, আপনি কোথায় থাকেন? জবাবে আপনি বললেন, বাংলাদেশে, বা গাজীপুরে। তাহলে প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য সফল হয়নি। হ্যাঁ, আপনি যদি আপনার থানা উদাহরণতঃ শ্রীপুর বলেন, তাহলে আপনার শ্রীপুর বলার দ্বারা আপনি গাজীপুরী এবং বাংলাদেশী হওয়ার পরিচয়কে আরো শক্তিশালী করে দিচ্ছে।
ঠিক তেমনিভাবে যখন আলী রাঃ এর ভন্ড অনুসারী রাফেজী কুকুর আমাদের জিজ্ঞেস করবে যে, আমরা কারা? তখন এ বিদআতিকে আমরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলি যে, আমরা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত। এখানে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বলার দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আমরা মুসলমান নাম ছেড়ে দিয়েছি। বরং আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বলার দ্বারা আরো শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে যে, আমরা সাচ্চা পাক্কা মুসলমান। তারপর যদি আমাদের কোন হাম্বলী জিজ্ঞেস করেন যে, আপনি কে? তখন যেহেতু তাদের সাথে আমাদের মতভেদ হল ইজতিহাদপূর্ণ মাসআলায় তাই আমরা নিজেদের পরিচয় দিব হানাফী বলে। এ পরিচয় দেয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আমরা আহলে সুন্নত নয়। কিংবা আমরা মুসলমান নয়। বরঞ্চ হানাফী শব্দের মাঝেই আহলে সুন্নত আর মুসলমান শব্দটি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
তাই এ ভ্রান্ত ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার একথা বলা যে, আমরা মুসলমান নাম ছেড়ে দিয়ে হানাফী নাম ধারণ করেছি, এটা একটি পরিস্কার মিথ্যাচার এবং মুর্খতা।
এটা এমনি মুর্খতা যে, শ্রীনগরের পরিচয় দাতাকে একথা বলা যে, তুমি গাজীপুর আর বাংলাদেশের সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করে শ্রীপুরী হয়ে গেছো!
তাদের এ মুর্খতার বিষয়ে শুধু একথাই বলি যে, আল্লাহ তাআলা যখন কারো থেকে দ্বীন ছিনিয়ে নেন, তখন তার থেকে বুদ্ধি-বিবেকও ছিনিয়ে নেন। আমরা তাদের কাছে বারবার বলেছি যে, একটি আয়াত বা হাদীস পেশ করুন, যাতে সুন্নী বা হানাফী পরিচয় দিলে ব্যক্তি মুসলমানিত্ব থেকে খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এর জবাবে তারা এমনভাবে চুপ মেরে যায়, যেমন صم بكم আয়াত যেন তাদের জন্যই নাজিল হয়েছে।
[sourse-http://ahlehaqmedia.com/tag/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE?print=print-page]
আপনি হজ্বে গেলেন। সেখানে আপনাকে একজন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কোথায় থাকেন? আপনি জবাবে বললেন! আমি বাংলাদেশী! প্রশ্নকর্তা ব্যক্তি আপনার পরিচিতি বুঝে যাবে। হজ্ব থেকে ফিরার সময়, ঢাকায় আপনাকে একজন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কোথায় থাকেন? আপনি জবাবে বললেনঃ আমি বাংলাদেশী। তাহলে আপনার উত্তর শোনে প্রশ্নকর্তা হাসবে। কারণ, এখানকার সবাই বাংলাদেশী। এখানে যদি আপনি বলেন, আপনি গাজীপুরের অধিবাসী। তাহলে আপনার পরিচিতি হয়ে যায়।
এখন যদি কোন মুর্খ একথা বলে যে, লোকটি নিজের বাংলাদেশী পরিচয় রেখে নিজেকে গাজীপুরের পরিচয় দিয়েছে। তাই লোকটি আর বাংলাদেশী নয়।
তাহলে আপনি কী বলবেন? নিশ্চয় বলবেন যে, এ মুর্খ লোকটি একথাও বুঝেনি যে, গাজীপুর বাংলাদেশেরই অন্তর্ভূক্ত। গাজীপুরী বলার দ্বারা বাংলাদেশী হওয়াকে অস্বিকার করা নয়। বরং বাংলাদেশী হওয়াকে আরো শক্তিশালী করে দিচ্ছে। এবার আপনি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গেলেন। সেখানে যাওয়ার পর আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করল, আপনি কোথায় থাকেন? জবাবে আপনি বললেন, বাংলাদেশে, বা গাজীপুরে। তাহলে প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য সফল হয়নি। হ্যাঁ, আপনি যদি আপনার থানা উদাহরণতঃ শ্রীপুর বলেন, তাহলে আপনার শ্রীপুর বলার দ্বারা আপনি গাজীপুরী এবং বাংলাদেশী হওয়ার পরিচয়কে আরো শক্তিশালী করে দিচ্ছে।
ঠিক তেমনিভাবে যখন আলী রাঃ এর ভন্ড অনুসারী রাফেজী কুকুর আমাদের জিজ্ঞেস করবে যে, আমরা কারা? তখন এ বিদআতিকে আমরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলি যে, আমরা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত। এখানে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বলার দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আমরা মুসলমান নাম ছেড়ে দিয়েছি। বরং আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বলার দ্বারা আরো শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে যে, আমরা সাচ্চা পাক্কা মুসলমান। তারপর যদি আমাদের কোন হাম্বলী জিজ্ঞেস করেন যে, আপনি কে? তখন যেহেতু তাদের সাথে আমাদের মতভেদ হল ইজতিহাদপূর্ণ মাসআলায় তাই আমরা নিজেদের পরিচয় দিব হানাফী বলে। এ পরিচয় দেয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আমরা আহলে সুন্নত নয়। কিংবা আমরা মুসলমান নয়। বরঞ্চ হানাফী শব্দের মাঝেই আহলে সুন্নত আর মুসলমান শব্দটি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
তাই এ ভ্রান্ত ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার একথা বলা যে, আমরা মুসলমান নাম ছেড়ে দিয়ে হানাফী নাম ধারণ করেছি, এটা একটি পরিস্কার মিথ্যাচার এবং মুর্খতা।
এটা এমনি মুর্খতা যে, শ্রীনগরের পরিচয় দাতাকে একথা বলা যে, তুমি গাজীপুর আর বাংলাদেশের সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করে শ্রীপুরী হয়ে গেছো!
তাদের এ মুর্খতার বিষয়ে শুধু একথাই বলি যে, আল্লাহ তাআলা যখন কারো থেকে দ্বীন ছিনিয়ে নেন, তখন তার থেকে বুদ্ধি-বিবেকও ছিনিয়ে নেন। আমরা তাদের কাছে বারবার বলেছি যে, একটি আয়াত বা হাদীস পেশ করুন, যাতে সুন্নী বা হানাফী পরিচয় দিলে ব্যক্তি মুসলমানিত্ব থেকে খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এর জবাবে তারা এমনভাবে চুপ মেরে যায়, যেমন صم بكم আয়াত যেন তাদের জন্যই নাজিল হয়েছে।
[sourse-http://ahlehaqmedia.com/tag/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE?print=print-page]
No comments:
Post a Comment